“হিসাব নং 0201433000295 থেকে ৩৩ লাখ উত্তোলন: বিএআরআই ডিজির বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ”
প্রকাশ: শুক্রবার, ২২ মে ২০২৬, ০৪:১৯ অপরাহ্ণ
বিশেষ সংবাদদাতা: বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট (বিএআরআই)-এর প্রশিক্ষণ ও যোগাযোগ (টিএন্ডসি) বিভাগের সোনালী ব্যাংকের হিসাব নম্বর 0201433000295 থেকে ৩৩ লাখ টাকা উত্তোলনের ঘটনায় মহাপরিচালক ড. মুহম্মদ আতাউর রহমানের বিরুদ্ধে গুরুতর দুর্নীতি, ক্ষমতার অপব্যবহার ও স্বেচ্ছাচারিতার অভিযোগ উঠেছে।
অভিযোগ অনুযায়ী, উত্তোলিত এই অর্থ মূলত মাস্টার্স ও পিএইচডি স্কলারশিপ খাতে বরাদ্দ ছিল। কিন্তু সেই অর্থ অবৈধভাবে আত্মসাৎ করে ব্যক্তিস্বার্থে ব্যবহারের চেষ্টা করা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা দাবি করেছেন। বিষয়টি রাষ্ট্রীয় অর্থের সরাসরি অপব্যবহার হিসেবে দেখা হচ্ছে।
এর পাশাপাশি মহাপরিচালকের বিরুদ্ধে সরকারি সম্পদের অপব্যবহারের অভিযোগও রয়েছে। জানা যায়, তিনি সরকারি গাড়ি ব্যবহার করে স্ত্রীসহ বিভিন্ন জেলায় ব্যক্তিগত ভ্রমণ করেছেন, যা সরকারি নীতিমালার পরিপন্থী। এতে রাষ্ট্রীয় সম্পদের অপচয় হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, প্রাতিষ্ঠানিক ক্ষমতা ব্যবহার করে অনৈতিক আর্থিক সুবিধা আদায়ের ঘটনা ঘটেছে। তার স্ত্রীকে ব্যবহার করে বিভিন্ন আঞ্চলিক কর্মকর্তাদের কাছ থেকে অর্থ সংগ্রহের অভিযোগ রয়েছে। একই সঙ্গে প্রশাসনিক সিদ্ধান্তে স্বেচ্ছাচারিতার নজির হিসেবে বাসা বরাদ্দে অনিয়মের বিষয়টিও সামনে এসেছে, যেখানে নির্ধারিত কমিটিকে পাশ কাটিয়ে পছন্দের ব্যক্তিদের মধ্যে বাসা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।
দুর্নীতি দমন কমিশনে অভিযোগ থাকা সত্ত্বেও সাবেক মহাপরিচালক ড. দেবাশীষ সরকারকে অনিয়মিতভাবে সকল পাওনা পরিশোধ করার অভিযোগও উঠেছে। সংশ্লিষ্ট সূত্র দাবি করছে, আর্থিক লেনদেনের মাধ্যমে এ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়েছে, যা প্রতিষ্ঠানের আর্থিক স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিয়ে গুরুতর প্রশ্নের সৃষ্টি করেছে।
উন্নয়ন কার্যক্রমে অনিয়মের অভিযোগ আরও প্রকট হয়েছে বড় প্রকল্পগুলোতে। কৃষি মন্ত্রণালয়ের গুরুত্বপূর্ণ PARTNER প্রকল্পে যেখানে অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের অগ্রগতি ৬০-৭০ শতাংশ, সেখানে বিএআরআই-এর অগ্রগতি মাত্র ৩০-৪০ শতাংশে সীমাবদ্ধ রয়েছে। একই সঙ্গে দরপত্র প্রক্রিয়ায় অনিয়ম করে ডন এন্টারপ্রাইজ নামের একটি প্রতিষ্ঠানকে কাজ দেওয়া হয়েছে, যারা তৃতীয় সর্বনিম্ন দরদাতা হওয়া সত্ত্বেও কার্যাদেশ পায়। এতে সরকারের প্রায় ১৭ লাখ টাকার আর্থিক ক্ষতি হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এসব অনিয়ম পরিকল্পিতভাবে ক্ষমতার অপব্যবহারের মাধ্যমেই সংঘটিত হয়েছে।
এদিকে, এ বিষয়ে মহাপরিচালক ড. মুহম্মদ আতাউর রহমানের বক্তব্য জানতে একাধিকবার তার হোয়াটসঅ্যাপ নম্বরে যোগাযোগ করে ব্যাখ্যা চাওয়া হলেও তিনি কোনো ধরনের জবাব দেননি। বারবার অনুরোধ করা সত্ত্বেও তার এই নীরবতা বিষয়ে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এটি অভিযোগগুলোর বিষয়ে তার কোনো অবস্থান বা ব্যাখ্যা নেই বলেই প্রতীয়মান হচ্ছে।
বিএআরআই-এর মতো গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় প্রতিষ্ঠানে এ ধরনের দুর্নীতি, স্বেচ্ছাচারিতা ও ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ গভীর উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে। সংশ্লিষ্টরা দ্রুত একটি স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।