সিপাহি-জনতার অভ্যুত্থানই ছিলো দেশের রাজনীতির টার্নিং পয়েন্ট

প্রকাশ: শনিবার, ০৭ নভেম্বর ২০২৬, ১০:০৫ পূর্বাহ্ণ
সিপাহি-জনতার অভ্যুত্থানই ছিলো দেশের রাজনীতির টার্নিং পয়েন্ট
ছবি: সংগৃহীত

 স্বাধীন বাংলাদেশের রাজনৈতিক পটপরিবর্তন ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার এক ঐতিহাসিক মাইলফলক ‘জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস’ আজ ৭ নভেম্বর ২০২৬ (শনিবার)। ১৯৭৫ সালের এই দিনে বহিরাগত ও অভ্যন্তরীণ নানা চক্রান্ত প্রতিহত করে একটি স্বাধীন রাষ্ট্রে গণতন্ত্র ও অখণ্ডতা বজায় রাখতে সিপাহি ও জনতা অভূতপূর্ব এক ঐক্যের মাধ্যমে রাজপথে নেমে এসেছিল।

১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্টের নির্মম ঘটনা এবং ৩ নভেম্বরের ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে জাতীয় চার নেতাকে হত্যার প্রেক্ষাপটে সেনাবাহিনীর তৎকালীন উপপ্রধান ব্রিগেডিয়ার জেনারেল খালেদ মোশাররফ সেনাপ্রধান মেজর জেনারেল জিয়াউর রহমানকে গৃহবন্দি করেন। তবে ৬ নভেম্বর গভীর রাতে সাধারণ সিপাহি ও সাধারণ মানুষ একত্রিত হয়ে সুসংগঠিত প্রতিরোধ গড়ে তোলে এবং জিয়াউর রহমানকে বন্দিদশা থেকে মুক্ত করে ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দুতে নিয়ে আসে। এই সিপাহি-জনতার সংহতির মাধ্যমে বাংলাদেশে বহুদলীয় গণতন্ত্রের নতুন অভিযাত্রা শুরু হয়।

 দীর্ঘ প্রায় দুই দশক পর রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় আসীন বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনগুলো গত ৫ নভেম্বর থেকে শুরু হয়ে আগামী ১১ নভেম্বর পর্যন্ত সপ্তাহব্যাপী কর্মসূচি হাতে নিয়েছে।

ঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী, আজ শনিবার সকাল সাড়ে ৮টায় শেরেবাংলা নগরে অবস্থিত শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সমাধিতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও বিএনপির সিনিয়র নেতৃবৃন্দ।

এরপর বেলা ৩টায় নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে থেকে বর্ণাঢ্য এক বিশাল শোভাযাত্রার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। নয়াপল্টন থেকে শুরু হয়ে এই র‍্যালিটি কাকরাইল, প্রধান বিচারপতির বাসভবন, হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টাল মোড়, বাংলামোটর ও ফার্মগেট হয়ে মানিক মিয়া অ্যাভিনিউতে গিয়ে শেষ হবে। একই সাথে ঢাকার বাইরে দেশের প্রায় প্রতিটি জেলা ও মহানগরে বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের উদ্যোগে স্বতঃস্ফূর্ত র‍্যালি, আলোচনা সভা ও আলোকচিত্র প্রদর্শনীর আয়োজন করা হয়েছে।

দিবসটি উপলক্ষে পৃথক বাণী প্রদান করেছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর তাঁর বাণীতে ১৯৭৫ সালের বীর সেনানী ও সিপাহি-জনতার ঐতিহাসিক সংহতিকে গভীর শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করে বলেন, "৭ নভেম্বরের চেতনায় উদ্বুদ্ধ হয়ে দলমত নির্বিশেষে সকলকে ঐক্যবদ্ধভাবে দুর্নীতি, বৈষম্য ও সকল ষড়যন্ত্রের অবসান ঘটাতে হবে। 'সবার আগে বাংলাদেশ' দর্শনের ভিত্তিতে পরিচালিত হবে রাষ্ট্র। জাতীয় স্বার্থ, সাম্য, ন্যায্যতা ও গণতন্ত্রচর্চা সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার পাবে।"

অপরদিকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বাণীতে উল্লেখ করেন, "১৯৭৫ সালের ঐতিহাসিক ৭ নভেম্বর সিপাহি-জনতার বিপ্লব বাংলাদেশের পথ নির্ধারণ করেছিল। যারা বাংলাদেশকে তাঁবেদার রাষ্ট্রে পরিণত করতে চেয়েছিল, ৭ নভেম্বর দেশপ্রেমিক সিপাহি-জনতার ঐতিহাসিক বিপ্লবের মাধ্যমে তাদের পরাজয় ঘটেছে। অতীতে যেমন দেশের স্বাধীনতা রক্ষায় জনগণ ঐক্যবদ্ধ হয়েছিল, তেমনই ২০২৪-এর গণ-অভ্যুত্থানের মাধ্যমে ফ্যাসিবাদমুক্ত দেশে ভবিষ্যতে আর কেউ যেন জনগণের গণতান্ত্রিক অধিকার কেড়ে নিতে না পারে, সেটিই আমাদের মূল অঙ্গীকার।"