সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদকে দেশে ফেরানোর প্রক্রিয়া
বাংলাদেশের সাথে সংযুক্ত আরব আমিরাতের কোনো আনুষ্ঠানিক দ্বিপাক্ষিক ‘এক্সট্রাডিশন ট্রিটি’ বা প্রত্যর্পণ চুক্তি নেই। তবে ২০১৪ সালের সিকিউরিটি কো-অপারেশন চুক্তি ও ট্রান্সফার অব সেন্টেন্সড প্রিজনার্স চুক্তির ভিত্তিতে আইনি সহযোগিতার সুযোগ রয়েছে। আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, সরাসরি চুক্তি না থাকলেও আন্তর্জাতিক আইন ও এক্সট্রাডিশন অ্যাক্ট, ১৯৭৪-এর অধীনে সরকার যথাযথ নথিপত্র প্রদান করে তাকে ফিরিয়ে আনতে পারে।
অতীতে আরাভ খান বা শীর্ষ সন্ত্রাসী জিসানের মতো আসামিদের ফিরিয়ে আনার ক্ষেত্রে নাগরিকত্ব ও পাসপোর্টের জটিলতা বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছিল। বেনজীর আহমেদের ক্ষেত্রেও তিনি যদি অন্য কোনো দেশের নাগরিকত্ব নিয়ে থাকেন বা অন্য কোনো দেশের পাসপোর্ট ব্যবহার করেন, তবে বিষয়টি অত্যন্ত জটিল হতে পারে। এছাড়া সংযুক্ত আরব আমিরাতের নিজস্ব আইন ও বিচারিক প্রক্রিয়ার ওপরও তার ফেরত আসা নির্ভর করছে।
স্বরাষ্ট্র ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে কূটনৈতিক চ্যানেলে প্রয়োজনীয় নথিপত্র পাঠানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। দুদকের মামলার নথিপত্র, আদালতের ওয়ারেন্ট এবং তদন্ত প্রতিবেদনগুলো শতভাগ নির্ভুলভাবে উপস্থাপন করা জরুরি। সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, রেড নোটিশের ভিত্তিতে যেহেতু গ্রেফতার হয়েছে, তাই সংশ্লিষ্ট দেশ থেকে তাকে ফেরানোর ব্যাপারে সরকার আশাবাদী।
বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে কেবল দুর্নীতির মামলা নয়, বরং আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে গুম, খুন ও গণহত্যার মতো গুরুতর অন্তত ১০টি মামলার তদন্ত চলমান রয়েছে। প্রসিকিউশন কার্যালয়ের তথ্যমতে, বিভিন্ন চাঞ্চল্যকর ঘটনায় তার সরাসরি সম্পৃক্ততার তথ্য পাওয়া গেছে।
পুলিশের অতিরিক্ত মহাপরিদর্শক খন্দকার রফিকুল ইসলাম জানিয়েছেন, খুব দ্রুত নথিপত্র স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হবে। তবে রেড নোটিশ জারি থাকা সত্ত্বেও অনেক আসামীকে বছরের পর বছর ধরে ফেরত পাওয়া সম্ভব হয়নি। তাই এটি সম্পন্ন করতে বাংলাদেশের কূটনৈতিক তৎপরতা এবং আমিরাত সরকারের রাজনৈতিক সদিচ্ছা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
সংশ্লিষ্টদের মতে, সবকিছু ঠিক থাকলে এবং তথ্য-উপাত্তের গ্রহণযোগ্যতা নিশ্চিত করা গেলে বেনজীর আহমেদকে দেশে ফিরিয়ে এনে আইনের আওতায় আনা সম্ভব হবে।
জান্নাত সকালবেলা
|