কুয়েত, বাহরাইন ও জর্ডানে মার্কিন সামরিক সরঞ্জাম ধ্বংসের দাবি ইরানের

প্রকাশ: মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬, ০৫:৩৭ অপরাহ্ণ
কুয়েত, বাহরাইন ও জর্ডানে মার্কিন সামরিক সরঞ্জাম ধ্বংসের দাবি ইরানের
এফ-১৫ বিমান

মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতিতে নজিরবিহীন ও চরম উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক সামরিক সংঘাত আরও ভয়াবহ রূপ ধারণ করার খতিয়ান সামনে আসছে। এবার পার্শ্ববর্তী তিন দেশ—কুয়েত, বাহরাইন এবং জর্ডানে অবস্থিত মার্কিন সামরিক বাহিনীর গুরুত্বপূর্ণ রাডার স্টেশন, উন্নত আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা (এয়ার ডিফেন্স সিস্টেম) এবং একাধিক এফ-১৫ (F-15) যুদ্ধবিমান সফল হামলার মাধ্যমে সম্পূর্ণরূপে ধ্বংস করে দেওয়ার দাবি জানিয়েছে ইসলামিক রিপাবলিক অফ ইরান।

ইরানের সামরিক সূত্র ও সংশ্লিষ্ট একাধিক আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থার বরাতে জানানো হয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যে পেন্টাগনের সামরিক উপস্থিতি ও গোয়েন্দা নজরদারি পঙ্গু করে দেওয়ার কৌশলগত অংশ হিসেবেই এই সমন্বিত হামলা পরিচালনা করা হয়েছে।

প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, কুয়েত ও বাহরাইনে অবস্থানরত মার্কিন ঘাঁটির ওপর পরিচালিত এই হামলায় পেন্টাগনের গুরুত্বপূর্ণ আর্লি-ওয়ার্নিং রাডার এবং ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরোধ ব্যবস্থা সরাসরি ক্ষতিগ্রস্ত ও নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়েছে। একই সময়ে জর্ডানের একটি প্রধান কৌশলগত বিমান ঘাঁটিতে নিখুঁত লক্ষ্যভেদী ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় রানওয়েতে থাকা বেশ কয়েকটি আধুনিক এফ-১৫ যুদ্ধবিমান ধ্বংস হয়েছে বলে দাবি করছে তেহরান।

কূটনৈতিক ও সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, কুয়েত, বাহরাইন ও জর্ডান—যেখানে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের (CENTCOM) শক্তিশালী উপস্থিতি রয়েছে, সেখানে সরাসরি হামলার মাধ্যমে মার্কিন বাহিনীকে বার্তা দিতে চাচ্ছে তেহরান। বিশেষ করে কৌশলগত রাডার ও প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ধ্বংস করার এই দাবি সত্যি হয়ে থাকলে, তা মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন বাহিনীর আকাশসীমা সুরক্ষায় এক বড় ধরনের বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে।

তবে ইরানের এই বিশাল ও বিস্ফোরক দাবির বিষয়ে পেন্টাগন বা মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তরের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত কোনো সুনির্দিষ্ট ও আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানানো হয়নি। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে পুরো মধ্যপ্রাচ্য জুড়ে চরম যুদ্ধের আশঙ্কা ছড়িয়ে পড়েছে এবং মার্কিন মিত্র দেশগুলোতে সর্বোচ্চ রেড অ্যালার্ট জারি করা হয়েছে।

মন্তব্য করুন