ইবির ইংরেজি বিভাগে ভর্তি জালিয়াতি, তদন্তে কমিটি গঠন
প্রকাশ: সোমবার, ২৭ জুলাই ২০২৬, ০৬:৩৭ অপরাহ্ণ
শিক্ষা ডেস্ক : ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) ইংরেজি বিভাগের ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষে আবারও মারাত্মক ভর্তি জালিয়াতির অভিযোগ উঠেছে। ভর্তি সংক্রান্ত কোনো বৈধ কাগজপত্র ও নথি ছাড়াই শামিমা আক্তার (রোল-২৪১০১০৪) নামের এক শিক্ষার্থী নিয়মিত ক্লাস ও সেমিস্টার পরীক্ষায় অংশ নিয়েছেন বলে জানা গেছে। পরবর্তীতে সেমিস্টারের ফলাফল প্রস্তুতের সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল ‘রেজাল্ট প্রসেসিং সফটওয়্যারে’ তার রোল নম্বরের তথ্য না পাওয়ায় এই চাঞ্চল্যকর প্রতারণার বিষয়টি প্রকাশ পায়।এ ঘটনায় ঘটনাটি খতিয়ে দেখতে ও দোষীদের চিহ্নিত করতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে।ঘটনার বিস্তারিত বিবরণী থেকে জানা যায়, ফলাফল তৈরির কাজে রেজাল্ট প্রসেসিং সফটওয়্যারে রোল নম্বরের অসংগতি ধরা পড়লে পরীক্ষা কমিটি বিষয়টি ইংরেজি বিভাগকে অবহিত করে। এরপর জরুরি বিভাগীয় সভা ডেকে ওই শিক্ষার্থীর ভর্তির যাবতীয় ফাইল ও নথি বিভাগ বা একাডেমিক শাখায় তল্লাশি চালানো হয়। কোথাও কোনো বৈধ প্রমাণ না পেয়ে পরীক্ষা কমিটি তাঁর সব পরীক্ষা বাতিল বলে ঘোষণা করে।ভর্তি জালিয়াতির এই ঘটনা তদন্তে মেহেরপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ও ইবির আরবি বিভাগের জ্যেষ্ঠ অধ্যাপক ড. তোজাম্মেল হোসেনকে আহ্বায়ক, উপ-রেজিস্ট্রার (শিক্ষা) মো. বদিউজ্জামানকে সদস্যসচিব এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট ড. মুহাম্মদ সাজ্জাদ হোসেনকে সদস্য করে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটিকে আগামী সাত কর্মদিবসের মধ্যে সুস্পষ্ট তথ্যপ্রমাণসহ দায়ীদের চিহ্নিত করে চূড়ান্ত প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে।ইংরেজি বিভাগ সূত্রে নিশ্চিত হওয়া গেছে যে, ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষের মূল চূড়ান্ত ভর্তি তালিকায় সর্বশেষ নিবন্ধিত বৈধ রোল নম্বর ছিল ২৪১০১০৩ এবং রেজিস্ট্রেশন নম্বর ছিল ২৪০০০৮৩৩। সেখানে অভিযুক্ত শামিমা আক্তারের রোল বা রেজিস্ট্রেশন নম্বরের কোনো অস্তিত্বই ছিল না। কিন্তু পরবর্তীতে বিভাগের অফিশিয়াল কম্পিউটার থেকেই উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে ২৪১০১০৪ রোল নম্বর তৈরি করে তাঁর নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয়।এ বিষয়ে ইংরেজি বিভাগের উপ-রেজিস্ট্রার ইসরাত জাহান বলেন, "অভিযুক্ত শিক্ষার্থী আমাকে এসে জানান যে তিনি মুক্তিযোদ্ধা কোটায় ভর্তি হয়েছেন এবং এতদিন ক্লাস করলেও খাতায় তাঁর নাম এন্ট্রি হয়নি। তাঁর দেওয়া রোলের ওপর ভিত্তি করে উপস্থিতি খাতায় নাম তোলা হয়েছিল।"ক্যাম্পাস সূত্রে অভিযোগ উঠেছে, বিভাগীয় একাধিক কর্মকর্তা ও কর্মচারীর প্রত্যক্ষ যোগসাজশ ছাড়া এমন জালিয়াতি কোনোভাবেই সম্ভব নয়। তাছাড়া ঘটনাটি পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক দপ্তরকে না জানিয়ে অলক্ষ্যে ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছিল বলেও গুঞ্জন রয়েছে। উল্লেখ্য, এর আগে ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষেও একই বিভাগে হুবহু একই কৌশলে ভুয়া শিক্ষার্থী ভর্তির ঘটনা ঘটেছিল, যা পরবর্তীতে প্রমাণিত হওয়ায় ভর্তি বাতিল করা হয়।ইংরেজি বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক ড. শাহাদাৎ হোসেন আজাদ জানান, বিষয়টি জানার পরপরই জরুরি সভায় তাঁর পরীক্ষা বাতিল এবং বিভাগের স্টাফদের সতর্ক করা হয়েছে।
তদন্ত কমিটির আহ্বায়ক অধ্যাপক ড. তোজাম্মেল হোসেন বলেন, "বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য মহোদয় বিষয়টি আমাকে অবগত করেছেন। আমরা সর্বোচ্চ নিরপেক্ষতার সঙ্গে বিষয়টি তদন্ত করে প্রকৃত সত্য বের করে আনব এবং নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই প্রতিবেদন জমা দেওয়ার চেষ্টা করব।"
|