অতিরিক্ত স্ক্রিন টাইমে শিশুর ঝুঁকি: ‘ভার্চুয়াল অটিজম’ নিয়ে সচেতনতা জরুরি

অতিরিক্ত স্ক্রিন টাইমে শিশুর ঝুঁকি: ‘ভার্চুয়াল অটিজম’ নিয়ে সচেতনতা জরুরি

কৌশিক আহাম্মেদ কবির: বর্তমান ডিজিটাল যুগে শিশুদের মোবাইল, ট্যাব ও টেলিভিশনের প্রতি আসক্তি আশঙ্কাজনকভাবে বাড়ছে। এর ফলে অনেক শিশু জন্মগতভাবে অটিজমে আক্রান্ত না হওয়া সত্ত্বেও অটিজমসদৃশ আচরণ ও যোগাযোগগত সমস্যায় ভুগছে, যাকে বিশেষজ্ঞরা ‘ভার্চুয়াল অটিজম’ হিসেবে অভিহিত করছেন।

ভার্চুয়াল অটিজমের লক্ষণসমূহ:

  • নাম ধরে ডাকলে সাড়া না দেয়া।

  • চোখে চোখ রেখে (Eye contact) কথা না বলা।

  • ভাষা বিকাশে বিলম্ব হওয়া বা কথা বলতে না পারা।

  • সমবয়সী শিশুদের সঙ্গে মেলামেশায় অনাগ্রহ।

  • নিজের প্রয়োজন বোঝাতে কথা না বলে হাত ধরে টেনে নিয়ে যাওয়া।

কেন এটি ঘটছে? স্ক্রিননির্ভর পরিবেশে শিশুকে কোনো সক্রিয় অংশগ্রহণ করতে হয় না। সেখানে আবেগ-অনুভূতি বা পারস্পরিক প্রতিক্রিয়ার প্রয়োজন নেই। ফলে বাস্তব জীবনের যোগাযোগ দক্ষতা, যেমন—ভাষা ব্যবহার ও অন্যের অনুভূতি বোঝার ক্ষমতা ব্যাহত হয়।

প্রতিকার ও করণীয়: ১. স্ক্রিন টাইম বর্জন: দুই বছরের নিচে শিশুদের জন্য স্ক্রিন ব্যবহার সম্পূর্ণ বন্ধ রাখা উচিত। দুই থেকে পাঁচ বছর বয়সীদের ক্ষেত্রেও এটি সীমিত করতে হবে। ২. বাস্তব অভিজ্ঞতা: শিশুকে চুপ করানোর জন্য মোবাইল না দিয়ে কোলে নেওয়া, কথা বলা বা খেলায় যুক্ত করা প্রয়োজন। ৩. গুণগত সময় (Quality Time): প্রতিদিন অন্তত ১ ঘণ্টা শিশুর সঙ্গে সরাসরি সময় কাটান। ব্লক দিয়ে খেলা, ছবি দেখে প্রশ্ন করা বা বাইরের পরিবেশের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেওয়া শিশুর চিন্তাশক্তি বাড়াতে সাহায্য করে। ৪. বিশেষজ্ঞের পরামর্শ: যদি দুই বছর পরও শিশু কথা না বলে বা নাম ধরে ডাকলে সাড়া না দেয়, তবে দেরি না করে স্পিচ অ্যান্ড ল্যাঙ্গুয়েজ থেরাপিস্ট বা শিশু বিশেষজ্ঞের শরণাপন্ন হোন।

মনে রাখতে হবে, শিশুর মস্তিষ্ক বিকাশের জন্য প্রথম পাঁচ বছর অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। প্রযুক্তির নেশা যেন তাদের স্বাভাবিক শৈশব ও সামাজিক বিকাশকে গ্রাস করতে না পারে, সেদিকে অভিভাবকদের এখনই সচেতন হতে হবে।

জান্নাত/সকালবেলা

মন্তব্য করুন