নভেম্বরে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে সংলাপের পরিকল্পনা: সিইসি
অনলাইন ডেস্কঃ শুধু একটি নির্দিষ্ট সময়ে অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন সম্পন্ন করাই নয়, বরং ভবিষ্যতের সব নির্বাচন যেন একই মানদণ্ডে ও স্বচ্ছ পরিবেশে অনুষ্ঠিত হতে পারে—সেই টেকসই সংস্কৃতি গড়ে তোলার লক্ষ্যে কাজ করছে বর্তমান নির্বাচন কমিশন (ইসি)। এই প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে কেন্দ্র করে আগামী নভেম্বর মাসের মধ্যেই দেশের সক্রিয় রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে সংলাপে বসার জোরালো সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে।
আজ বুধবার (২৮ অক্টোবর ২০২৬) জাতীয় বার্তা সংস্থা বাসসকে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে এই পরিকল্পনা ও কৌশলের কথা বিস্তারিত তুলে ধরেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন।
সিইসি জানান, স্থানীয় সরকার নির্বাচন দলীয় প্রতীকে না হলেও এতে প্রার্থীদের পেছনে পরোক্ষ বা প্রত্যক্ষ রাজনৈতিক সমর্থন থাকে। ফলে মাঠপর্যায়ে নিরপেক্ষ ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখতে হলে রাজনৈতিক দলগুলোর ইতিবাচক সহযোগিতা অতীব জরুরি। তাই আগামী নভেম্বরের মধ্যেই সকল দলগুলোর সঙ্গে এক টেবিলে আলোচনায় বসতে চায় ইসি। তিনি স্পষ্ট করেন, নির্বাচনে সূক্ষ্ম বা স্থূল কোনো জালিয়াতি হলে দেশে কখনোই প্রকৃত ও কার্যকর গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব নয়।
ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনকে প্রধান চ্যালেঞ্জ হিসেবে উল্লেখ করে সিইসি নাসির উদ্দিন বলেন, অতীতে ইউপি নির্বাচনে নানা সহিংসতা ও প্রাণহানির অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটেছে। এই ধরনের অনিয়ম ও পেশিশক্তির ব্যবহার চিরতরে বন্ধ করতে নির্বাচনী আচরণবিধি অত্যন্ত কঠোরভাবে বাস্তবায়ন করা হবে। এবার প্রতিটি ভোটকেন্দ্রে সিসি ক্যামেরা স্থাপনের পাশাপাশি দায়িত্ব পালনকারী আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের শরীরেও আধুনিক ‘বডি ক্যামেরা’ যুক্ত থাকবে। যেকোনো অভিযোগের তাৎক্ষণিক নিষ্পত্তিতে বিচারিক ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটরা সার্বক্ষণিক মাঠে তৎপর থাকবেন।
সিইসি আরও জানান, ২০২৪ সালের শেষের দিকে দায়িত্ব নেওয়ার পর ভেঙে পড়া নির্বাচন ব্যবস্থার ওপর মানুষের আস্থা ফেরানোকেই মূল অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। ইতিমধ্যে বাড়ি বাড়ি গিয়ে তথ্য সংগ্রহের মাধ্যমে ১০ লাখের বেশি নতুন নারী ভোটার তালিকায় যুক্ত হয়েছেন এবং ২১ লাখের বেশি মৃত ভোটারের নাম তালিকা থেকে সফলভাবে কর্তন করা হয়েছে।
দেশের সবকটি স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানের নির্বাচন সম্পন্ন করতে প্রায় ১০ মাস থেকে এক বছর সময় লাগতে পারে উল্লেখ করে তিনি জানান, পরীক্ষা ও বর্ষা মৌসুমের আকস্মিক বন্যা বিবেচনায় নিয়েই প্রথম ধাপে ইউপি এবং পরবর্তীতে পৌরসভার নির্বাচনের সুনির্দিষ্ট সময়সূচি ঘোষণা করা হবে। ভোটাররা যেন নির্বিঘ্নে ও নিরাপদে কেন্দ্রে এসে ভোটাধিকার প্রয়োগ করে সুস্থদেহে বাড়ি ফিরতে পারেন—তা নিশ্চিত করাই কমিশনের প্রধান লক্ষ্য।
সকালবেলা / নুসরাত