কৃষিসহ বিভিন্ন খাতে যুক্তরাষ্ট্রকে বিনিয়োগের আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

প্রকাশ: শনিবার, ০১ আগস্ট ২০২৬, ০৫:১১ অপরাহ্ণ
কৃষিসহ বিভিন্ন খাতে যুক্তরাষ্ট্রকে বিনিয়োগের আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর
প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে মার্কিন বিশেষ দূত সার্জিও গোরের সঙ্গে বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। (ছবি: ফাইল ছবি)
জাতীয় ডেস্ক : বাংলাদেশের কৃষি, তথ্যপ্রযুক্তি (আইটি) ও অবকাঠামোসহ সার্বিক অর্থনৈতিক খাতগুলোতে ব্যাপক মার্কিন বিনিয়োগের আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেন, বিশেষ করে ওয়্যারহাউজিং, সয়াবিন, তুলা ও গমের মতো কৃষি খাতে বিনিয়োগের মাধ্যমে দেশে একটি শক্তিশালী, আধুনিক ও প্রতিযোগিতামূলক পণ্য সরবরাহ ব্যবস্থা (সাপ্লাই চেইন) গড়ে তোলা সম্ভব।আজ শনিবার (১ আগস্ট) সকালে রাজধানীর তেজগাঁওস্থ প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে সফররত যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়াবিষয়ক বিশেষ দূত সার্জিও গোর সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে এলে প্রধানমন্ত্রী এই আহ্বান জানান। বৈঠক শেষে প্রধানমন্ত্রীর উপ-প্রেস সচিব শাহাদাৎ স্বাধীন সাংবাদিকদের এ বিষয়ে বিস্তারিত অবহিত করেন।

উপ-প্রেস সচিব জানান, ফলপ্রসূ এই বৈঠকে মার্কিন বিশেষ দূত সার্জিও গর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের গতিশীল নেতৃত্বের তীব্র প্রশংসা করে বলেন, “আপনার শক্তিশালী নেতৃত্বে বাংলাদেশে দ্রুত স্থিতিশীলতা ফিরে আসছে। এই ইতিবাচক পরিবর্তনের আলোকেই যুক্তরাষ্ট্র সরকার সম্প্রতি বাংলাদেশের জন্য মার্কিন নাগরিকদের ভ্রমণ সতর্কবার্তা (ট্রাভেল অ্যাডভাইজরি) হ্রাস করেছে।” সার্জিও গর মন্তব্য করেন, এই সিদ্ধান্তটি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বড় বড় বিনিয়োগকারীদের কাছে একটি পরিষ্কার বার্তা দেবে যে—বাংলাদেশ এখন নিরাপদে বিনিয়োগের জন্য পুরোপুরি প্রস্তুত।বৈঠকে দ্বিপক্ষীয় অর্থনৈতিক সম্পর্কের নানা গুরুত্বপূর্ণ দিক স্থান পায়। বিশেষ করে আগামী মাসে ‘ইউএস-বাংলাদেশ বিজনেস কাউন্সিল’-এর একটি প্রতিনিধিদলের ঢাকা সফর এবং মার্কিন আন্তর্জাতিক উন্নয়ন অর্থায়ন কর্পোরেশনের (DFC) মাধ্যমে বাংলাদেশে ফান্ডিং সম্প্রসারণের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা হয়। বিশেষ দূত জানান, খুব শিগগিরই ঢাকায় একটি ‘ইউএস ইনভেস্টর সামিট’ বা মার্কিন বিনিয়োগকারী সম্মেলন আয়োজন করার পরিকল্পনা চলছে।

আইটি খাতের অপার সম্ভাবনার কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এই খাতে মার্কিন বিনিয়োগের বিষয়ে বিশেষ তাগিদ দেন। এর জবাবে বিশেষ দূত সার্জিও গর জানান, বাংলাদেশ তথ্যপ্রযুক্তিতে দারুণ এগোচ্ছে এবং ভবিষ্যতে ‘প্যাক্স সিলিকা’ উদ্যোগের অংশীদার হওয়ার পূর্ণ সুযোগ রয়েছে। এ ছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের খাদ্য ও ঔষধ প্রশাসন (FDA)-এর পরীক্ষামূলক কার্যক্রম বাংলাদেশে পুনঃসূচনার বিষয়ে সহায়তার আশ্বাস দেন তিনি।বৈঠকে বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া মিয়ানমারের বিপুল রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর বর্তমান পরিস্থিতি এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতা নিয়েও আলোচনা হয়। রোহিঙ্গা সংকটের টেকসই ও দ্রুত রাজনৈতিক সমাধানের তাগিদ দিয়ে মার্কিন দূত জানান, আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিতে আসিয়ান ও পার্শ্ববর্তী দেশগুলোর সমন্বিত উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন। অন্যদিকে, রোহিঙ্গাদের পেছনে আন্তর্জাতিক মানবিক সহায়তার অর্ধেকের বেশি যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে আসায় মার্কিন সরকার ও জনগণের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন প্রধানমন্ত্রী।উচ্চপর্যায়ের এই বৈঠকে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম, প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির, উপদেষ্টা মাহদী আমিন ও রেহান আসিফ আসাদ, ওয়াশিংটনে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত তারেক মো. আরিফুল ইসলাম এবং ঢাকায় নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট ক্রিসটেনসেনসহ দুই দেশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ।

মন্তব্য করুন