সাফল্যের পর হোটেল পার্টি ও নাচানাচি: সিজেপি নেতাদের ‘অসংবেদনশীলতা’ নিয়ে ক্ষোভ

প্রকাশ: মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই ২০২৬, ০১:৩৫ অপরাহ্ণ
সাফল্যের পর হোটেল পার্টি ও নাচানাচি: সিজেপি নেতাদের ‘অসংবেদনশীলতা’ নিয়ে ক্ষোভ
 আন্তর্জাতিক ডেস্ক; টানা ৩৭ দিনের দীর্ঘ ও রাজপথ কাঁপানো আন্দোলনের মুখে শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানকে পদত্যাগে বাধ্য করার মধ্য দিয়ে ভারতের রাজনীতির মাঠে ধামাকা অভিষেক ঘটেছিল তরুণদের প্ল্যাটফর্ম ‘ককরোচ জনতা পার্টি’র (সিজেপি)। তবে আন্দোলনের সফলতা উদ্‌যাপনে তাদের বিতর্কিত আচার-আচরণ ও নেতাদের অনভিপ্রেত কর্মকাণ্ডে এবার বড় ধরনের সমালোচনার মুখে পড়েছে দলটি।আন্দোলন চলাকালে প্রকাশ্যে বার্গার খেয়ে পদ হারানো সিজেপির সাবেক মুখপাত্র বিজেতা দাহিয়ার ঘটনা কিংবা তাদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ভাষা নিয়ে আগেই বিতর্ক ছিল। এমনকি বলিউডের অভিনেত্রী ও বিজেপি সাংসদ কঙ্গনা রানাউতও দলটির স্লোগানের কটূ সমালোচনা করেছিলেন। তবে এবার খোদ দলের প্রতিষ্ঠাতা ও জ্যেষ্ঠ শুভানুধ্যায়ীদের তোপের মুখে পড়েছেন দলটির মূল নেতারা।ঘটনার সূত্রপাত আন্দোলনের পর গত শনিবার রাতে শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান পদত্যাগ করার পর। মন্ত্রী পদত্যাগের ঘোষণা দেওয়ার পরপরই সে রাতে দিল্লির একটি অভিজাত হোটেলে সিজেপির কেন্দ্রীয় নেতারা নেচে-গেয়ে এবং কেক কেটে জাঁকজমকপূর্ণভাবে বিজয় উদ্‌যাপন করেন। এই পার্টিতে উপস্থিত ছিলেন দলের অন্যতম প্রধান মুখ সৌরভ দাসসহ অন্যান্য শীর্ষ তরুণ নেতারা। সেই নাচানাচি ও পার্টির ভিডিও মুহূর্তের মধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে তৈরি হয় তীব্র ক্ষোভ।সিজেপির আন্দোলনে একাত্মতা জানিয়ে টানা ২৬ দিন অনশনে থাকা বিখ্যাত পরিবেশকর্মী ও অ্যাক্টিভিস্ট সোনম ওয়াংচুক নেতাদের এই উদযাপনে অসন্তোষ প্রকাশ করে বলেন, “যেকোনো বিজয়ের সাথে নম্রতা ও সংযম থাকা উচিত। সাফল্যকে আত্মস্থ করার জন্য মর্যাদা, সংযম ও দায়বদ্ধতা অপরিহার্য।”অন্যদিকে দলটির অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা সদস্য ও পরিচিত ইউটিউবার মেঘনাদ সিজেপি নেতাদের এই কর্মকাণ্ড দেখে ক্ষোভ সংবরণ করতে পারেননি। ইনস্টাগ্রামে একটি পোস্টে মেঘনাদ জানান, আন্দোলনের অন্যতম কেন্দ্রবিন্দু যন্তর মন্তরে দীর্ঘদিন নেতাদের সাথে ক্যাম্প করা শত শত সাধারণ শিক্ষার্থী ও স্বেচ্ছাসেবক যখন না খেয়ে রাস্তায় দিন কাটাচ্ছিলেন, তখন নেতারা শীতাতপনিয়ন্ত্রিত হোটেলে আনন্দ-উৎসবে মেতে উঠেছিলেন।নিজের পকেটের টাকায় ও কয়েকজন সঙ্গীকে নিয়ে গৃহহীন ও ক্ষুধার্ত আন্দোলনকারীদের বাড়ি পাঠানোর ব্যবস্থা করার কথা উল্লেখ করে মেঘনাদ আক্ষেপের সাথে লেখেন, “ভোর চারটার সময় যখন আমরা যন্তর মন্তরে পড়ে থাকা ৭০ জনেরও বেশি ক্ষুধার্ত শিক্ষার্থীকে খাবার খাওয়াচ্ছি ও বাড়ি পাঠাচ্ছি, তখন দেখছি আপনারা পার্টি করছেন। আপনারা চরম অসংবেদনশীলতার পরিচয় দিয়েছেন। অভিনন্দন সিজেপি, শেষ পর্যন্ত আপনারা আর দশটা সাধারণ রাজনৈতিক দলের মতোই হয়ে গেলেন!”তবে উদ্‌যাপনের এই স্টাইল ও পদ্ধতি নিয়ে ওঠা সব সমালোচনা সরাসরি নাকচ করে দিয়েছেন সিজেপির মুখপাত্র সৌরভ দাস। তাঁর মতে, তাঁদের প্রতিবাদের ভাষা ও উদ্‌যাপন সাধারণ রাজনৈতিক সংস্কৃতির চেয়ে আলাদা।সাফাই গেয়ে সৌরভ দাস বলেন, “আমরা রাজপথে যেমন দিনের পর দিন বসে আন্দোলন করতে পারি, তেমনই আবার নাচতে নাচতে প্রতিবাদও করতে পারি। কোল্ড কফিতে চুমুক দিয়ে আমরা রাজনীতি গোছাতে জানি। বর্তমান তরুণ বা জেন-জি (Gen-Z) প্রজন্ম ঠিক এমনই—আত্মবিশ্বাসী ও স্বাধীনচেতা।”তিনি প্রবীণ রাজনীতিকদের দিকে ইঙ্গিত করে আরও বলেন, “আঙ্কেল আর আন্টিরা সমালোচনা করতেই পারেন, তাঁদের এগুলো সহ্য করেই চলতে হবে!” তবে রাতের পার্টিটিকে তিনি নেতাদের ব্যক্তিগত আমোদপ্রমোদ না বলে আন্দোলনকারী স্বেচ্ছাসেবকদের সাথে একটা সাধারণ 'মিলনমেলা' হিসেবেই দাবি করেছেন।

মন্তব্য করুন