জাতিসংঘের মহাসচিব হিসেবে ইনফান্তিনোকে চান ট্রাম্প: নিউ ইয়র্ক পোস্ট
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফার বর্তমান সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোকে জাতিসংঘের পরবর্তী মহাসচিব পদে দেখতে চান মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যম ‘নিউ ইয়র্ক পোস্ট’-এর এক বিশেষ প্রতিবেদনে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।
প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, ২০২৬ সালের বিশ্বকাপ যৌথভাবে আয়োজনের উদ্যোগ ও শুরু থেকে ট্রাম্পের সাথে ইনফান্তিনোর অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ ও প্রাতিষ্ঠানিক সম্পর্ক গড়ে ওঠে। সেই সুবাদেই ফিফা সভাপতির বৈশ্বিক গ্রহণযোগ্যতা ও প্রশাসনিক দক্ষতার প্রতি ট্রাম্পের এই বিশেষ আগ্রহ ও সমর্থনের জন্ম হয়েছে।
সুইজারল্যান্ডে জন্ম নেওয়া ৫৬ বছর বয়সী জিয়ান্নি ইনফান্তিনো সাম্প্রতিক বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ও ক্রীড়া অনুষ্ঠানে ট্রাম্পকে সম্পৃক্ত করার পাশাপাশি ফিফার ইতিহাসে প্রথমবারের মতো প্রবর্তিত ‘পিস প্রাইজ’ বা শান্তি পুরস্কারও ট্রাম্পের হাতে তুলে দেন।
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ একটি সূত্রের বরাতে জানানো হয়, ট্রাম্প ব্যক্তিগতভাবে মনে করেন ইনফান্তিনো বিশ্বজুড়ে সর্বস্তরের মানুষের কাছে অত্যন্ত সম্মানিত এক ব্যক্তিত্ব এবং বিভিন্ন দেশ ও জাতির মধ্যে সংযোগ ও ঐক্য প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে তাঁর বিশেষ রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক সক্ষমতা রয়েছে।
উল্লেখ্য, জাতিসংঘের বর্তমান মহাসচিব পর্তুগালের সাবেক প্রধানমন্ত্রী আন্তোনিও গুতেরেস চলতি ২০২৬ সালের ডিসেম্বরের শেষে আনুষ্ঠানিকভাবে তাঁর মেয়াদ সম্পন্ন করে দায়িত্ব ছাড়বেন। এরপরই বিশ্বের সর্বোচ্চ এই সংস্থায় নতুন অভিভাবক বা মহাসচিব নির্বাচনের প্রাতিষ্ঠানিক প্রক্রিয়া শুরু হবে। তবে জাতিসংঘের শীর্ষ এই পদে আসীন হতে হলে ইনফান্তিনোকে প্রথম দফায় জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের ১৫টি সদস্য রাষ্ট্রের সমর্থন নিশ্চিত করতে হবে। পরবর্তীতে সাধারণ পরিষদের চূড়ান্ত অনুমোদনের মাধ্যমে নিয়োগ সম্পন্ন হবে।
তবে এই সম্মানজনক পদের বিষয়ে ইনফান্তিনো নিজে ব্যক্তিগতভাবে আগ্রহী কি না কিংবা ট্রাম্পের সঙ্গে এ নিয়ে সরাসরি কোনো দ্বিপাক্ষিক আলোচনা হয়েছে কি না, তা এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে স্পষ্ট করা হয়নি।
জাতিসংঘের মহাসচিব নির্বাচনে সম্ভাব্য প্রার্থী তালিকায় লাতিন আমেরিকার সাবেক রাষ্ট্রপ্রধানসহ বেশ কয়েকজন প্রভাবশালী ব্যক্তিত্বের নাম থাকলেও ট্রাম্প মনে করছেন, এই লড়াইয়ে ইনফান্তিনোর জয়ের ভালো সম্ভাবনা রয়েছে। নিউ ইয়র্ক পোস্টের প্রতিবেদনে বর্তমান সম্ভাব্য প্রার্থীদের মধ্যে সাতজনকে ‘তুলনামূলক দুর্বল’ হিসেবে অভিহিত করা হয়। অন্যান্য প্রার্থীদের মধ্যে রয়েছেন চিলির সাবেক প্রেসিডেন্ট মিশেল বাশেলেট এবং আন্তর্জাতিক আণবিক শক্তি সংস্থার (আইএইএ) মহাপরিচালক আর্জেন্টিনার রাফায়েল গ্রোসি।
নিয়ম অনুযায়ী, ইনফান্তিনোকে জাতিসংঘ প্রধান করা হলে তা লাতিন আমেরিকা কিংবা ক্যারিবীয় অঞ্চল থেকে প্রার্থী নির্বাচনের বহুদিনের ঐতিহ্য ও নীতিতে বড় পরিবর্তন আনবে। কেননা সর্বশেষ ১৯৮২ থেকে ১৯৯১ সাল পর্যন্ত পেরুর হাভিয়ার পেরেজ দে কুয়েয়ার ওই অঞ্চল থেকে জাতিসংঘের মহাসচিব হিসেবে দায়িত্ব সামলেছিলেন।
তবে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, জাতিসংঘের ক্ষেত্রে ভৌগোলিক ভারসাম্যের এই পুরোনো সমীকরণ ইনফান্তিনোর পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়াবে না, কারণ ট্রাম্পের প্রভাব ছাড়াও বিশ্বের আরও কয়েকটি পরাশক্তি দেশের সমর্থন পাওয়ার সম্ভাবনা তাঁর রয়েছে।
বিষয়টি নিয়ে ট্রাম্পের বৈশ্বিক অংশীদারত্ব বিষয়ক বিশেষ দূত পাওলো জামপোল্লি মন্তব্য করেন, "এমন একটি অনন্য ও চমকপ্রদ চিন্তা একমাত্র প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পেরই মাথায় আসতে পারে।" তিনি আরও বলেন, "ইনফান্তিনো জাতিসংঘের আমলাতান্ত্রিক জটিলতায় গতি ফেরাতে পারবেন এবং বিশ্ব ক্রীড়াকে কাজে লাগিয়ে তরুন ও পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর মাঝে নতুন বৈশ্বিক সংযোগ ঘটাতে সক্ষম হবেন।"
উল্লেখ্য, জাতিসংঘের বর্তমানে ১৯৩টি সদস্য রাষ্ট্র নিয়ে কাজ করতে হলেও ফিফার অধীনে রয়েছে ২০০টিরও বেশি নিবন্ধিত দেশ, যা পরিচালনা করার সুদীর্ঘ রেকর্ড ইনফান্তিনোর রয়েছে। তবে আয় ও পারিশ্রমিকের দিক দিয়ে ফিফায় ইনফান্তিনোর বার্ষিক আয় যেখানে প্রায় ৬ মিলিয়ন ডলার, সেখানে জাতিসংঘের মহাসচিবের নির্ধারিত বার্ষিক বেতন প্রায় ৪ লাখ ১৮ হাজার ডলার।
অন্যদিকে, ইনফান্তিনো ইতোমধ্যে ফিফার সভাপতি হিসেবে আগামী ২০২৭ সালের নির্বাচনে পুনরায় প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার ঘোষণা দিয়ে রেখেছেন, যার নির্বাচন আগামী ২০২৭ সালের মার্চে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। তবে জাতিসংঘের মহাসচিব পদের এই গুঞ্জন নিয়ে তাঁর পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
|