মেসির বিদায়ি জার্সি ঠাঁয় পেল বুয়েনস এইরেসের রিভার প্লেটের জাদুঘরে

প্রকাশ: শনিবার, ১০ অক্টোবর ২০২৬, ১০:২০ পূর্বাহ্ণ
মেসির বিদায়ি জার্সি ঠাঁয় পেল বুয়েনস এইরেসের রিভার প্লেটের জাদুঘরে

ক্রীড়া ডেস্ক: আন্তর্জাতিক ফুটবলের শত শত মহাকাব্যিক মুহূর্ত সময় পেরিয়ে একসময় গ্যালারির গর্জন ও উল্লাস থমকে দিলেও, কিছু অমলিন স্মৃতি চিরকালের জন্য স্থান করে নেয় ইতিহাসের স্বর্ণাক্ষরে। বিশ্ব ফুটবলের সর্বকালের অন্যতম সেরা মহাতারকা লিওনেল মেসির জাতীয় দলের হয়ে খেলা বিদায়ি ম্যাচের ঐতিহাসিক জার্সিটি এখন ঠাঁই পেয়েছে বুয়েনস এইরেসের বিখ্যাত ফুটবল ক্লাব রিভার প্লেটের নিজস্ব জাদুঘরে।

প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে মহাজাগতিক এই ফুটবল ইতিহাসের অনন্য অধ্যায়কে জীবন্ত ও সংরক্ষিত রাখতেই ক্লাব কর্তৃপক্ষের এই গৌরবময় উদ্যোগ। এটি কেবল একটা ট্রফি বা কাপড় নয়; বরং এক মহান রাষ্ট্রীয় বীরের বর্ণাঢ্য পথচলা, অসংখ্য ঐতিহাসিক অর্জন ও কোটি ফুটবলপ্রেমীর ভালোবাসার মহিমান্বিত প্রতীক।

আর্জেন্টিনার জার্সিতে নিজের শেষ আন্তর্জাতিক ম্যাচটিতে স্বমহিমায় উজ্জ্বল ছিলেন লিওনেল মেসি। বেনিনের বিরুদ্ধে ৩-০ গোলের এক অবিস্মরণীয় জয় নিয়ে আন্তর্জাতিক ফুটবলকে বিদায় জানান তিনি। ওই ঐতিহাসিক ম্যাচের তিনটি গোলেই প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ ভূমিকা ছিল এই অধিনায়কের।

ম্যাচের ৪৮ মিনিটে মেসির মাপা কর্নার কিক থেকে অসাধারণ হেডে লক্ষ্যভেদ করেন ডিফেন্ডার নিকোলাস ওতামেন্দি, যিনি নিজেও মেসির সাথে জাতীয় দলের হয়ে শেষ ম্যাচটি খেলছিলেন। ৬১ মিনিটে বক্সের বাইরে থেকে তরুণ তারকা নিকো পাজের বাঁ পায়ের অবিশ্বাস্য বাঁকানো শটের গোলেও বাড়ানো পাসটি ছিল মেসির। আর ম্যাচের ৭১ মিনিটে নিখুঁত পেনাল্টি শটে নিজে গোল করে নিজের ও দেশের এই রাজকীয় বিদায়কে তুলির আঁচড়ে স্মরণীয় করে তোলেন স্বয়ং মেসি।

স্টেডিয়ামে উপস্থিত ৮৫ হাজারের বেশি গ্যালারিভর্তি সমর্থকের সামনে আকাশী-নীল জার্সিতে মেসির সেই শেষ মুহূর্তগুলো ভেসেছিল গভীর ভালোবাসা আর অবর্ণনীয় বিষাদময় অশ্রুতে। প্রিয় ফুটবল ঈশ্বরকে আর কখনো নিজ দেশের জার্সিতে প্রতিপক্ষকে চূর্ণ করতে দেখতে না পাওয়ার তীব্র আকুলতায় ভক্তদের চোখের জল ও চিৎকারের উল্লাস একাকার হয়ে গিয়েছিল।

যদিও বিদায়ি জার্সিটি আজ কাচের বাক্সে বন্দি হয়ে জাদুঘরের শোভা বর্ধন করছে, তবুও ফুটবলবোদ্ধাদের মতে—মেসির আসল গল্প কোনো কাচের ফ্রেমে আটকে থাকার নয়। তাঁর বাঁ পায়ের ঐশ্বরিক ড্রিবলিং, গোলের উন্মাদনা আর সতীর্থদের জড়িয়ে ধরে আনন্দ উদযাপনের প্রতিটি দৃশ্য মহাকালের স্রোত পেরিয়ে ফুটবলের মানচিত্রে চির ভাস্বর হয়ে থাকবে।