মৌলভীবাজারে পাহাড়-বন কেটে রিসোর্ট, পরিবেশ ধ্বংসের শঙ্কা
তিমির বনিক, মৌলভীবাজার প্রতিনিধি: চায়ের রাজ্য হিসেবে পরিচিত মৌলভীবাজারে পাহাড়, টিলা ও বন উজাড় করে একের পর এক গড়ে উঠছে অবৈধ রিসোর্ট ও কটেজ। পর্যটন প্রসারের নামে পরিবেশ ধ্বংসের এই তাণ্ডব চললেও জেলা প্রশাসন বা সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কাছে এসব রিসোর্টের সুনির্দিষ্ট কোনো তথ্য নেই।
স্থানীয় বাসিন্দা ও পরিবেশকর্মীদের অভিযোগ, জেলাজুড়ে দুই শতাধিক রিসোর্ট গড়ে উঠলেও প্রকৃত মানের রিসোর্ট ১০ থেকে ১২টির বেশি নয়। বিশেষ করে শ্রীমঙ্গল ও কমলগঞ্জ উপজেলায় পাহাড় কেটে ও বনাঞ্চল ধ্বংস করে গড়ে তোলা এসব নামসর্বস্ব কটেজে সামাজিক অনাচার বৃদ্ধি পাওয়ার পাশাপাশি নিরাপত্তাব্যবস্থাও নেই। প্রকৃতি ধ্বংসের কারণে বন্যপ্রাণীর আবাসস্থল সংকুচিত হয়ে তারা খাবারের সন্ধানে প্রায়ই লোকালয়ে চলে আসছে।
পরিবেশ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক মো. মাঈদুল ইসলাম জানান, জেলায় ২০টির বেশি কক্ষবিশিষ্ট মাত্র ৬০টি রিসোর্ট পরিবেশগত ছাড়পত্র নিয়েছে। বাকি শতাধিক প্রতিষ্ঠান কার অনুমোদনে চলছে তা তাঁদের জানা নেই। লোকবল সংকটের কারণে নিয়মিত অভিযান চালানো সম্ভব হচ্ছে না বলেও জানান তিনি।
এ বিষয়ে মৌলভীবাজারের জেলা প্রশাসক তৌহিদুজ্জামান পাভেল জানান, মূলত তারকা মানের হোটেল-রিসোর্ট তদারকি করা হয়, ছোট রিসোর্টগুলো সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। অন্যদিকে শ্রীমঙ্গল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. জিয়াউর রহমান জানান, রিসোর্ট পরিচালনার জন্য একটি সুনির্দিষ্ট নীতিমালা প্রয়োজন এবং ইতোমধ্যে তালিকা তৈরির কাজ চলছে।
এআইএল/সকালবেলা