
কোটচাঁদপুর (ঝিনাইদহ) প্রতিনিধি: ঘড়ির কাঁটায় তখন সকাল সাড়ে ৬টা। ঝিনাইদহের কোটচাঁদপুর পৌর শহরের মেইন বাজারের চিত্রটা প্রতিদিনের মতোই পাল্টে যায়। শত শত পাখি দল বেঁধে এসে জড়ো হয় 'মমতা হোটেল এন্ড রেস্টুরেন্ট'-এর সামনে। ঠিক সেই মুহূর্তে খাবারের পাত্র হাতে বেরিয়ে আসেন পঞ্চাশোর্ধ্ব মোহাম্মদ আলী শেখ। তাকে দেখামাত্রই কিচিরমিচির শব্দে মুখরিত হয়ে ওঠে চারপাশ। এক অনন্য মৈত্রীর দৃশ্য ফুটে ওঠে মানুষ আর পাখিদের মাঝে।
বিগত ৯ বছর ধরে এভাবেই প্রতিদিন নিয়ম করে পাখিদের খাবার খাইয়ে আসছেন হোটেল ব্যবসায়ী মোহাম্মদ আলী শেখ। তিনি জানান, সারাদিন ব্যবসার পর যে খাবারগুলো অবশিষ্ট থাকে, সেগুলো তিনি যত্ন করে জমিয়ে রাখেন পাখিদের জন্য। পরের দিন সকালে দোকান খোলার পর পাশের দোকানগুলোর টিনের চালে খাবার ছিটিয়ে দেন তিনি। খাবার ছিটিয়ে দেওয়ার সঙ্গে সঙ্গে বিদ্যুতের তার ও পাশের ভবনগুলো থেকে পাখিরা নেমে এসে ক্ষুন্নিবৃত্তি করে।
মমতা হোটেলের মালিক মোহাম্মদ আলী শেখ বলেন, “এই পাখিদের খাবার দিয়ে আমি পরম তৃপ্তি পাই। প্রতিদিন গড়ে এক থেকে দেড়শ টাকা ব্যয় হয় এদের পেছনে। কখনো খাবার ফুরিয়ে গেলে বা হোটেল বন্ধ থাকলে আমি নিজের হাতে পরোটা বানিয়ে দেই অথবা পাশের দোকান থেকে পাউরুটি কিনে খাওয়াই। কোনোভাবেই ওদের না খাইয়ে বিদায় করতে পারি না।”
কোটচাঁদপুর পৌরসভার সলেমানপুর গ্রামের বাসিন্দা মোহাম্মদ আলী শেখ ব্যক্তিগত জীবনে দুই ছেলে ও এক মেয়ের জনক। তার এই ব্যতিক্রমী উদ্যোগ স্থানীয়দের মাঝে ব্যাপক প্রশংসা কুড়িয়েছে।
এ বিষয়ে কোটচাঁদপুর উপজেলার বন কর্মকর্তা শফিকুল ইসলাম বলেন, “পাখিদের প্রতি এমন ভালোবাসা সত্যিই বিরল এবং প্রশংসনীয়। এটি একটি মানবিক কাজ। আমি নিজে গিয়েও এই চমৎকার দৃশ্যটি দেখে এসেছি।” পরিবেশ ও প্রকৃতির প্রতি মোহাম্মদ আলীর এই মমত্ববোধ অন্যদের জন্যও এক অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত হয়ে দাঁড়িয়েছে।
এম.এম/সকালবেলা