
মহিউদ্দিন আহমেদ, শ্রীপুর (গাজীপুর) প্রতিনিধি: গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার গোসিংগা ইউনিয়নের পটকা থেকে বাউনি বাজার অভিমুখী সেরার খালের ওপর নির্মিত সেতুটি এখন মরণফাঁদে পরিণত হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় থাকলেও প্রতিদিন এই সেতুর ওপর দিয়ে শত শত মানুষ ও ছোট-বড় যানবাহন চলাচল করছে। এতে যেকোনো মুহূর্তে বড় ধরনের দুর্ঘটনার শঙ্কা প্রকাশ করছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ১৯৮৮ সালে নির্মিত এই সেতুটির পিলারগুলো শুধু ইট দিয়ে তৈরি। প্রায় ৫ বছর আগে সেরার খাল পুনঃখননের সময় বর্ষার পানির স্রোতে সেতুর নিচের এক-তৃতীয়াংশ ইট ও মাটি সরে যায়। এরপর থেকেই সেতুর নিচে বড় ধরনের ফাটল ও ফাঁকা তৈরি হয়েছে। এলাকাবাসীর অভিযোগ, সেতুটি বর্তমানে এতটাই নড়বড়ে যে এটি যেকোনো সময় ধসে পড়তে পারে। পটকা গ্রামের বাসিন্দা আখতারুজ্জামান জানান, প্রতিদিন স্কুলশিক্ষার্থী ও কর্মজীবী মানুষ এই আতঙ্ক নিয়েই যাতায়াত করছে। অন্য এক বাসিন্দা সাজেদুল করিম ভয় প্রকাশ করে বলেন, রাতের অন্ধকারে অপরিচিত কোনো চালক ভারী যানবাহন নিয়ে সেতুর ওপর উঠে পড়লে ভয়াবহ বিপর্যয় ঘটতে পারে।
অটোরিকশাচালক আব্দুর রশিদ বলেন, সেতু পার হওয়ার সময় মনে হয় সেটি দেবে যাচ্ছে, কিন্তু বিকল্প রাস্তা না থাকায় বাধ্য হয়েই এই ঝুঁকি নিতে হচ্ছে। এমনকি ড্রাম ট্রাক চালক আসাদুল্লাহ জানান, সেতুর কঙ্কালসার অবস্থা দেখে তিনি বালুভর্তি ট্রাক নিয়ে ভয়ে ফিরে এসেছেন। এ বিষয়ে গোসিংগা ইউনিয়ন পরিষদের ২ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য ফারুক আহমেদ জানান, বিষয়টি উপজেলা প্রকৌশলী দপ্তরকে জানানো হয়েছে এবং দ্রুত নতুন সেতুর প্রস্তাব পাঠানো হবে বলে তারা আশ্বাস দিয়েছেন।
শ্রীপুর উপজেলা প্রকৌশলী তৌহিদ আহমেদ সেতুর বর্তমান অবস্থার কথা স্বীকার করে জানান, সেতুটি সত্যিই অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ এবং বিষয়টি তাদের নজরে রয়েছে। তিনি বলেন, দ্রুত জরিপ শেষ করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে আপাতত জননিরাপত্তার স্বার্থে সেতুর প্রবেশদ্বারের উভয় পাশে রাস্তার সংযোগস্থলে অস্থায়ীভাবে দুটি সতর্কতামূলক সাইনবোর্ড স্থাপন করা হবে বলে তিনি নিশ্চিত করেন। স্থানীয়দের দাবি, কোনো প্রাণহানির আগেই যেন এখানে একটি স্থায়ী ও নিরাপদ সেতু নির্মাণ করা হয়।
এম.এম/সকালবেলা