
মহিউদ্দিন আহমেদ, শ্রীপুর (গাজীপুর) প্রতিনিধি: গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার ৫০০ বছরের পুরনো ঐতিহ্যবাহী নদীবন্দর বরমী বাজারে জমে উঠেছে শীতকালীন টাটকা সবজির হাট। প্রতি বুধবার সাপ্তাহিক হাটবার উপলক্ষে শীতলক্ষ্যা নদীর খেয়াঘাট এলাকায় ভোর থেকে বেলা ১১টা পর্যন্ত চলে এই বেচাকেনা। চলতি মৌসুমে সবজির সরবরাহ প্রচুর থাকায় এবং দাম ক্রেতা-বিক্রেতা উভয়ের সাধ্যের মধ্যে থাকায় বাজারে উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করছে। যোগাযোগ ব্যবস্থা উন্নত হওয়ায় স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে এখানকার সবজি এখন রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তে পৌঁছে যাচ্ছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, পার্শ্ববর্তী গফরগাঁও ও কাপাসিয়া উপজেলাসহ বিভিন্ন এলাকা থেকে কৃষকরা ইঞ্জিনচালিত নৌকা ভরে টাটকা শাকসবজি নিয়ে বাজারে আসছেন। বিশেষ করে গফরগাঁওয়ের টাংগাব ইউনিয়ন থেকে সবজির বড় একটি অংশ আসে এই হাটে। বাজারে আসা পাইকাররা সরাসরি কৃষকদের কাছ থেকে হাক-ডাক দিয়ে সবজি সংগ্রহ করছেন।
বাজার সংশ্লিষ্টদের মতে, প্রতি হাটের দিন এখানে গড়ে ৪ থেকে ৫ লাখ টাকার সবজি কেনাবেচা হয়। কাপাসিয়ার সিংহ শ্রী গ্রাম থেকে আসা কৃষক আলাল জানান, তিনি ৭ বিঘা জমিতে টমেটো চাষ করেছেন। তীব্র শীতে কিছু গাছ নষ্ট হলেও প্রতি সপ্তাহে প্রায় ৯০ হাজার টাকার টমেটো বিক্রি করছেন। সামনে রমজান মাসে আরও ভালো দাম পাওয়ার আশা করছেন তিনি।
এদিকে বাজারে সবজি কিনতে আসা পাইকার আব্দুল জলিল জানান, গত সপ্তাহের তুলনায় দাম সামান্য বাড়লেও তা সহনীয়। তিনি আজ পাতাকপি ২০ টাকা এবং টমেটো ৩২ টাকা কেজি দরে সংগ্রহ করেছেন। আড়তদার ও ব্যবসায়ীরা জানান, বাজারে সবজির সরবরাহ সন্তোষজনক হওয়ায় বিক্রেতারা ন্যায্য দাম পাচ্ছেন। সবজি আনলোডের কাজে নিয়োজিত শ্রমিক রহমত আলী জানান, প্রতিদিন সকাল থেকে ১১টা পর্যন্ত কাজ করে তিনি ৫০০ থেকে ৬০০ টাকা আয় করছেন। শ্রীপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সুমাইয়া সুলতানা বন্যা জানান, চলতি বছর উপজেলায় ১৩ হাজার ৪০০ হেক্টর আবাদি জমির মধ্যে ২৬ হাজার ৭০১ মেট্রিক টন জমিতে সবজি চাষ করা হয়েছে। গত বছরের তুলনায় এবার উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ও ফলন দুই-ই ভালো হয়েছে।
এম.এম/সকালবেলা