
বিএনপির প্রয়াত চেয়ারপারসন ও তিনবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়াকে রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ সম্মানসূচক উপাধিতে ভূষিত করার দাবি করা হয়েছে। এই দাবি সামনে এসেছে খালেদা জিয়ার স্মরণে আয়োজিত নাগরিক শোকসভায়।
নাগরিক শোকসভায় উপস্থিত বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার বিশিষ্টজনরা বলেন, দেশে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার সুযোগকে কাজে লাগানোই হবে খালেদা জিয়ার প্রতি শ্রদ্ধা জানানোর পথ। তাদের মতে, উপমহাদেশের রাজনীতিতে গত একশ বছরের ইতিহাসে বেগম জিয়ার মতো জনপ্রিয় ও আপসহীন নেত্রী বিরল। জনপ্রিয়তাকে সঙ্গে নিয়ে তিনি চিরবিদায় নিয়েছেন। তবে তার চিকিৎসায় স্লো-পয়জন প্রয়োগ ও অবহেলার অভিযোগ তদন্তের জন্য উচ্চতর কমিটি গঠনের দাবি জানিয়েছেন বক্তারা।
শুক্রবার (১৬ জানুয়ারি) জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষির প্লাজায় আয়োজিত শোকসভায় দেশের রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক শ্রেণির নাগরিক এবং বিভিন্ন দেশ ও আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রতিনিধি উপস্থিত ছিলেন। বেলা তিনটায় বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানও স্ত্রী জুবাইদা রহমান, মেয়ে জাইমা রহমান ও ছোট ভাই আরাফাত রহমান কোকোর স্ত্রী শামিলা রহমানসহ পরিবারের সঙ্গে সভায় যোগ দেন। বক্তাদের স্মৃতিকথার মাধ্যমে দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের উন্নয়নে খালেদা জিয়ার অবদান ও দূরদর্শীতার কথা নীরবে শুনেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান।
সভায় বক্তারা বলেন, দেশের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখা ও কল্যাণমুখী রাষ্ট্র গড়ার পথে খালেদা জিয়ার আদর্শ অনুসরণ করা গুরুত্বপূর্ণ। তিনি প্রতিহিংসার শিকার হলেও জীবনের শেষ সময় উদারতার নজির রেখেছেন। গণতন্ত্রের জন্য সংগ্রাম করা এই রাজনীতির নক্ষত্রকে রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ সম্মান দেওয়ার দাবি ওঠে। সভা শেষে বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান উপস্থিতদের সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন।
অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা আসিফ নজরুল বলেন, ‘খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে জঘন্য বিচার চালানো হয়েছিল। চিকিৎসার জন্য তাকে বিদেশ পাঠানোর চেষ্টা করেছি। বেগম জিয়া ভালো থাকলে, ভালো থাকবে বাংলাদেশ। দেশকে ভালো রাখতে হলে তাকে সম্মান জানাতে হবে।’
শোকসভায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার চিকিৎসায় চরম অবহেলার বিষয়ও আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে ছিল। তার চিকিৎসায় স্লো-পয়জন ব্যবহার ও অবহেলার অভিযোগের তদন্তে উচ্চতর কমিটি গঠনের আহ্বান জানানো হয়।
সাবেক প্রধান বিচারপতি সৈয়দ জে আর মোদাচ্ছের বলেন, ‘বেগম জিয়ার আদর্শই গণতান্ত্রিক লড়াইয়ের মূল পাথেয়।’ ইংরেজি দৈনিক সম্পাদক মাহফুজ আনাম বলেন, ‘কারাবন্দি থাকা অবস্থায়ও খালেদা জিয়া উদারতার আহ্বান দিয়েছিলেন।’ লেখক ও গবেষক মহিউদ্দিন আহমদ বলেন, ‘প্রতিহিংসার রাজনীতি থেকে বের হতে খালেদা জিয়ার আহ্বান বাস্তবায়ন করতে হবে।’
সাবেক চিকিৎসক প্রধান এফ এম সিদ্দিকি জানান, প্রায় বারো বছর ধরে চিকিৎসা করেছেন। তিনি অভিযোগ করেন, চিকিৎসায় সঠিক নজরদারি না থাকার কারণে লিভার সিরোসিসের ঝুঁকি বাড়ানো হয়েছিল এবং চিকিৎসক হিসেবে তার পছন্দের চিকিৎসক অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি। এজন্য উচ্চতর তদন্ত কমিটি গঠনের আহ্বান জানানো হয়।
সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টার সহকারী রাজা দেবাশীষ রায় বলেন, ‘খালেদা জিয়ার প্রতি শ্রদ্ধা বাংলাদেশের অসাম্প্রদায়িক ও বহুত্ববাদী চেতনার সঙ্গে সম্পর্কিত।’ ‘আমার দেশ’ সম্পাদক মাহমুদুর রহমান বলেন, ‘একশ বছরের মধ্যে জিয়াউর রহমান ও খালেদা জিয়া দুজনই সারাজীবন জনপ্রিয়তা নিয়ে রাজনীতিতে এসেছেন। খালেদা জিয়ার মতো কেউ গণতন্ত্রের জন্য এত ত্যাগী হননি। তার পতাকা আগামী প্রজন্ম বয়ে নেবে।’