
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কিশোরগঞ্জের ৬টি সংসদীয় আসনেই প্রতীক বরাদ্দের আগেই প্রচার-প্রচারণার ধুম পড়েছে। আগামী ২১ জানুয়ারি প্রতীক বরাদ্দের তারিখ নির্ধারিত থাকলেও প্রার্থীরা সেই নিয়মের তোয়াক্কা না করে মাঠ ও ভার্চুয়াল জগৎ চষে বেড়াচ্ছেন। কিশোরগঞ্জ-১ থেকে শুরু করে কিশোরগঞ্জ-৬ আসন পর্যন্ত প্রতিটি নির্বাচনী এলাকায় বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী ও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থীরা পুরোদমে তৎপরতা শুরু করেছেন। মাজহারুল ইসলাম, অধ্যক্ষ মো. মোছাদ্দেক ভূঞা, ড. ওসমান ফারুক ও শরীফুল আলমের মতো হেভিওয়েট প্রার্থীদের সমর্থকেরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দলীয় প্রতীকসংবলিত পোস্টার ও বার্তা ছড়িয়ে নির্বাচনী পরিবেশ সরগরম করে তুলেছেন। প্রার্থীরা নিয়মিত হাট-বাজার ও সামাজিক অনুষ্ঠানে গিয়ে ভোট ও দোয়া চাইলেও প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোনো দৃশ্যমান ব্যবস্থা না নেওয়ায় নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা নিয়ে স্থানীয় জনমনে গভীর উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে।
এ প্রসঙ্গে জেলা সুশাসনের জন্য নাগরিকের (সুজন) যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. ফারুকুজ্জামান গণমাধ্যমকে বলেন, “প্রতীক বরাদ্দের আগেই প্রতীকসংবলিত পোস্টার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে আচরণবিধি লঙ্ঘন করছে। এতে নির্বাচনী পরিবেশ প্রশ্নবিদ্ধ হচ্ছে। এমন হতে থাকলে শান্তিপূর্ণ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন অনুষ্ঠান দুষ্কর হয়ে পড়বে। এগুলো নির্বাচন কমিশনের তদারকি করা উচিত।”। যদিও গত ১২ জানুয়ারি বাসদ প্রার্থী মাসুদ মিয়া ও সিপিবি প্রার্থী এনামুল হককে পোস্টার সাঁটানোর দায়ে শোকজ করেছেন নির্বাচনী অনুসন্ধান ও বিচারিক কমিটির বিচারক মো. কাউছার আলম, তবে বড় দলগুলোর ক্ষেত্রে প্রশাসনের এমন নিষ্ক্রিয়তা দৃশ্যমান। এ বিষয়ে জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আসলাম মোল্লা গণমাধ্যমকে বলেন, “প্রতীক বরাদ্দের আগে কোনো ধরনের প্রচারণা চালাতে পারবে না। করলেই আচরণবিধি লঙ্ঘন হবে। আপনার কাছে কোনো প্রমাণ থাকলে দিন।”। প্রশাসনের এমন চ্যালেঞ্জিং মন্তব্যে জনমনে মিশ্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে।
সারাদেশ/সকালবেলা