
ফিলিস্তিনের অবরুদ্ধ গাজায় ইসরাইলি হামলায় অন্তত ১০ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি) এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা।
গাজায় গত বছরের অক্টোবর থেকে যুদ্ধবিরতি চললেও তা লঙ্ঘন করে উপত্যকাটিতে হামলা চালিয়ে আসছে দখলদার বাহিনী। আর উপত্যকাটিকে সব শেষ ইসরাইলি হামলায় এই হতাহতের খবর এমন সময়ে আসলো যখন যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধের অবসানে হামাসের সঙ্গে ২০ দফা যুদ্ধবিরতি চুক্তির দ্বিতীয় ধাপে অগ্রগতি হয়েছে বলে ঘোষণা দিয়েছে।
উপত্যকাটির স্বাস্থ্য-বিষয়ক কর্মকর্তারা নিশ্চিত করেছেন, নিহত ছয়জনের মধ্যে ১৬ বছর বয়সি এক কিশোরও রয়েছে।
ইসরাইলি সামরিক বাহিনী দাবি করেছে, নিহতদের একজন মুহাম্মদ আল-হাওলি। তিনি হামাসের সশস্ত্র শাখা কাসাম ব্রিগেডসের কমান্ডার ছিলেন বলে দাবি করেছে দখলদার বাহিনী।
গাজা সিটি থেকে আল জাজিরার প্রতিবেদক ইব্রাহিম আল-খালিলি জানান, কাসাম ব্রিগেডসের একজন ‘জ্যেষ্ঠ নেতা’ নিহত হয়েছেন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, এই হামলার মাধ্যমে ইসরাইল স্পষ্ট বার্তা দিয়েছে—যুদ্ধবিরতির দ্বিতীয় ধাপ তারা নিজেদের শর্তেই নির্ধারণ করবে।
আল-খালিলি আরও বলেন, যুদ্ধবিরতির পরবর্তী ধাপে একটি ফিলিস্তিনি টেকনোক্র্যাটিক প্রশাসন গঠনের কথা রয়েছে, যা আন্তর্জাতিক একটি ‘বোর্ড অব পিস’-এর তত্ত্বাবধানে পরিচালিত হবে। একই সঙ্গে পরিস্থিতি ফের উত্তপ্ত হওয়ার বিকল্পও ‘খোলা’ রাখা হয়েছে।
এদিকে, গাজার অন্যান্য এলাকাতেও প্রাণহানি ঘটেছে। রাফাহ শহরের পশ্চিমে আল-আলাম রাউন্ডঅ্যাবাউটের কাছে ইসরাইলি বাহিনীর গুলিতে অন্তত একজন নিহত হন। গাজা সিটির দক্ষিণ-পশ্চিমে আল-নাবলুসি জংশনের কাছে একটি পুলিশ চৌকিতে ইসরাইলি হামলায় আরও একজনের মৃত্যু হয়। এছাড়া, গাজার কেন্দ্রীয় নুসেইরাত শরণার্থী শিবিরে আল-খতিব পরিবারের বাড়িতে ইসরাইলি বিমান হামলায় আরও দু’জন নিহত হয়েছেন।
ফিলিস্তিনি বার্তা সংস্থা ওয়াফা জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় ইসরাইলি বাহিনী গাজার কেন্দ্রীয় শহর দেইর আল-বালাহে আল-হাওলি ও আল-জারু পরিবারের দুটি বাড়িতে বোমা হামলা চালায়।