
পীরগাছা (রংপুর) প্রতিনিধি: রংপুরের পীরগাছায় বাংলাদেশ স্কাউটসের ব্যানারে আয়োজিত 'কাব ক্যাম্পুরী' মেলাকে কেন্দ্র করে প্রায় ৩০ লাখ টাকা চাঁদাবাজির গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় ব্যবসায়ী ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের দাবি, রাজনৈতিক প্রভাব খাটানো এবং উপজেলা প্রশাসনের ভ্রাম্যমাণ আদালতের ভয় দেখিয়ে এই বিপুল পরিমাণ অর্থ আদায় করা হয়েছে। নৈতিকতা ও শৃঙ্খলা শেখানোর প্ল্যাটফর্ম হিসেবে পরিচিত স্কাউট আন্দোলনের নামে এমন অর্থ আদায়ের ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, গত ২৬ ডিসেম্বর থেকে ৩০ ডিসেম্বর পর্যন্ত কুটিপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও পাওটানা হাট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে পাঁচ দিনব্যাপী এই কাব ক্যাম্পুরী মেলার আয়োজন করে বাংলাদেশ স্কাউটস পীরগাছা উপজেলা শাখা। অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেছিলেন উপজেলা স্কাউট সভাপতি ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) দেবাশীষ বসাক।
অভিযোগ উঠেছে, মেলার আগে পাওটানা বাজার এলাকায় রাসায়নিক সার সংক্রান্ত অভিযোগে একাধিক ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হয়। সেই আতঙ্ককে পুঁজি করে ‘অপারেশন ডেভিল হান্ট’ ও নতুন করে জরিমানার ভয় দেখিয়ে ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে কৌশলে চাঁদা আদায় করে আয়োজক চক্র।
মেলার স্বাগতিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ছাদেকুল ইসলাম অর্থ আদায়ের কিছু তথ্য স্বীকার করে জানান, মেলায় অংশগ্রহণকারী বিদ্যালয়গুলো থেকে এক হাজার টাকা এবং অন্যান্য বিদ্যালয় থেকে ৫০০ টাকা করে মোট ১ লাখ ৪ হাজার ৫০০ টাকা সংগ্রহ করা হয়েছে। এছাড়া পাওটানা হাট ব্যবসায়ী সমিতি থেকে ৫০ হাজার টাকা নেওয়া হয়েছে।
তার দাবি অনুযায়ী, পুরো আয়োজনে প্রায় ১০ লাখ টাকা ব্যয় হয়েছে। তবে নির্ভরযোগ্য একটি সূত্র দাবি করেছে, ইউএনও ব্যক্তিগতভাবে এক লাখ টাকা প্রদান করেছেন এবং উপজেলার টিসিবি ডিলার, বিসিআইসি ডিলার, ইটভাটা মালিক ও ফিলিং স্টেশনগুলো থেকে প্রায় ৩০ লাখ টাকা তোলা হয়েছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ইটভাটা মালিক জানান, বিভিন্ন সময় স্কাউটের নাম করে টাকা নেওয়া হলেও সেই অংক প্রকাশ করতে ইউএনও অফিস থেকে নিষেধ করা হয়েছে।
এ বিষয়ে স্থানীয় সচেতন মহল ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, শিশুদের যেখানে নৈতিকতা ও সততার পাঠ দেওয়া হয়, সেখানে ভীতি প্রদর্শন করে অর্থ সংগ্রহ অত্যন্ত নিন্দনীয়। এটি স্কাউট আন্দোলনের মূল উদ্দেশ্যকেই প্রশ্নবিদ্ধ করেছে।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে পীরগাছা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা দেবাশীষ বসাক জানান, অর্থ আদায়ের বিষয়টি তার জানা নেই। তবে এই ধরনের কোনো ঘটনা ঘটে থাকলে খোঁজ নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে তিনি আশ্বাস দেন। যদিও স্থানীয়দের দাবি, দীর্ঘ সময় পার হলেও এখন পর্যন্ত তদন্তের কোনো দৃশ্যমান উদ্যোগ নেওয়া হয়নি।
আর.এম/সকালবেলা