
গ্রিনল্যান্ড নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ‘মৌলিক মতবিরোধ’-এর কথা জানিয়েছে ডেনমার্ক। ওয়াশিংটনে উচ্চপর্যায়ের বৈঠকেও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মেরু অঞ্চলের এই ভূখণ্ড দখলের আগ্রহ ঘিরে সৃষ্ট উত্তেজনা কমেনি। ব্রিটিশ গণমাধ্যম বিবিসি এ খবরটি জানিয়েছে।
ডেনমার্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী লার্স লোক্কে রাসমুসেন বলেন, ভাইস-প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওর সঙ্গে আলোচনা ছিল খোলামেলা কিন্তু গঠনমূলক। তবে গ্রিনল্যান্ড দখল করার বিষয়ে ট্রাম্পের অনড় অবস্থানকে তিনি পুরোপুরি অগ্রহণযোগ্য বলে মন্তব্য করেন। রাসমুসেন বলেন, “আমরা খুব স্পষ্টভাবে জানিয়েছি, ডেনমার্কের এখানে কোনও স্বার্থ নেই।” তিনি আরও জানান, যুক্তরাষ্ট্রকে স্পষ্ট সীমারেখা বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্র, ডেনমার্ক ও গ্রিনল্যান্ডের মধ্যে ঘণ্টাব্যাপী বৈঠকে বড় কোনো অগ্রগতি হয়নি। তবে আলোচনা চালিয়ে যেতে একটি উচ্চপর্যায়ের ওয়ার্কিং গ্রুপ গঠনে সম্মত হয়েছে পক্ষগুলো। রাসমুসেন জানান, দ্বীপটিতে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতি বাড়ানোর বিষয়ে ডেনমার্ক ও গ্রিনল্যান্ড আলোচনা করতে প্রস্তুত, কিন্তু সার্বভৌমত্ব নিয়ে কোনো আপস হবে না।
মেরু অঞ্চলে রাশিয়া ও চীনের তৎপরতা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের উদ্বেগে কিছুটা সত্যতা আছে বলে স্বীকার করেন রাসমুসেন। তবে গ্রিনল্যান্ডের আশপাশে বিদেশি যুদ্ধজাহাজ চলাচলের বিষয়ে ট্রাম্পের দাবিকে তিনি ভুল ও ভিত্তিহীন বলে প্রত্যাখ্যান করেন।
গ্রিনল্যান্ডের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ভিভিয়ান মোটজফেল্টও একই অবস্থান তুলে ধরে বলেন, ওয়াশিংটনের সঙ্গে সহযোগিতা বাড়ানো সম্ভব, কিন্তু কোনো ধরনের দখল গ্রহণযোগ্য নয়। বৈঠক শেষে তিনি বলেন, আমরা আমাদের সীমারেখা স্পষ্ট করে দিয়েছি।
অন্যদিকে ট্রাম্প তার অবস্থান আরও জোরালো করে সাংবাদিকদের বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তা ও ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষার জন্য গ্রিনল্যান্ড অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। দ্বীপটি রক্ষায় ডেনমার্কের সক্ষমতা নিয়েও তিনি প্রশ্ন তোলেন এবং প্রয়োজনে সামরিক শক্তি ব্যবহারের সম্ভাবনা নাকচ করেননি। একই সঙ্গে অঞ্চলটি কেনার ধারণা আবারও সামনে আনেন তিনি।
এই বিরোধের প্রেক্ষাপটে গ্রিনল্যান্ডের পক্ষে দ্রুত সমর্থন জানিয়েছে ইউরোপীয় মিত্ররা। ডেনমার্কের অনুরোধে সেখানে সেনা পাঠানোর অঙ্গীকার করেছে সুইডেন। ফ্রান্স জানিয়েছে, আগামী মাসে দ্বীপটিতে একটি কনস্যুলেট খোলার পরিকল্পনা রয়েছে। জার্মানি বলেছে, সম্ভাব্য সামরিক সহায়তার বিষয়টি মূল্যায়নে তারা একটি অনুসন্ধানী দল পাঠাবে।
উত্তর আমেরিকা ও মেরু অঞ্চলের মাঝামাঝি অবস্থানের কারণে গ্রিনল্যান্ড দীর্ঘদিন ধরেই ক্ষেপণাস্ত্র আগাম সতর্কতা ব্যবস্থা ও আঞ্চলিক নজরদারিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে আসছে। ডেনমার্কের সঙ্গে দীর্ঘদিনের চুক্তির আওতায় সেখানে যুক্তরাষ্ট্র ইতোমধ্যে পিটুফিক সামরিক ঘাঁটি পরিচালনা করছে।
এদিকে গ্রিনল্যান্ড দখল যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তার জন্য অপরিহার্য, ট্রাম্পের এমন দাবির বিপরীতে জনমত জরিপে এর স্পষ্ট বিরোধিতা দেখা গেছে। অধিকাংশ গ্রিনল্যান্ডবাসী যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণ প্রত্যাখ্যান করেছেন। একই সঙ্গে রয়টার্স ও ইপসোসের সাম্প্রতিক জরিপে দেখা যায়, মাত্র ১৭ শতাংশ মার্কিন নাগরিক গ্রিনল্যান্ড দখলের পক্ষে, যেখানে ৪৭ শতাংশ এ উদ্যোগের বিরোধিতা করেছেন।