
জীবন কুমার রায়, চিরিরবন্দর (দিনাজপুর) প্রতিনিধি: দিনাজপুরে কোতোয়ালি থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) পরিচয় দিয়ে ১ লাখ টাকা চাঁদা দাবির অভিযোগে সদর উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক আব্দুর রাজ্জাক (৩৫) ও তার সহযোগী মো. আপেলকে (২২) গণধোলাই দিয়ে পুলিশে সোপর্দ করেছে স্থানীয় জনতা। শুক্রবার (১০ জানুয়ারি) বিকেলে দিনাজপুর সদর উপজেলার ভাটানি (ঠাকুরবাড়ি) এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। পরে পুলিশ তাদের গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতের মাধ্যমে জেলা কারাগারে পাঠিয়েছে। আটক আব্দুর রাজ্জাক সদর উপজেলার নহনা গ্রামের রুস্তম আলীর ছেলে এবং আপেল একই এলাকার শাহাদত হোসেনের ছেলে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ৭ জানুয়ারি নিজেকে কোতোয়ালি থানার ওসি পরিচয় দিয়ে চৈতু বর্মণ ও তার ছেলে ইমন চন্দ্র বর্মণকে অপহরণ করেন আব্দুর রাজ্জাক ও তার দলবল। পরে তাদের শেখপুরা ইউনিয়নের মাধবপুর গ্রামে মহেষ চন্দ্র নামের এক ব্যক্তির বাড়িতে আটকে রেখে ১ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হয়। টাকা সংগ্রহের সুযোগ দিতে বুধবার ভুক্তভোগীদের ছেড়ে দেয় অভিযুক্তরা। এরপর বৃহস্পতিবার রাতে পুনরায় চাঁদার টাকা দাবি করতে ওই বাড়িতে গেলে স্থানীয় গ্রামবাসী তাদের আটক করে গণধোলাই দেয়। এ সময় পরিস্থিতি বুঝে অভিযুক্তের ৭-৮ জন সহযোগী পালিয়ে যায়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে আহত অবস্থায় দুজনকে আটক করে।
এ ঘটনায় ভুক্তভোগী চৈতু বর্মণ বাদী হয়ে আব্দুর রাজ্জাকসহ ৮ জনের বিরুদ্ধে কোতোয়ালি থানায় মামলা দায়ের করেছেন। থানার ওসি মো. মতিউর রহমান জানান, যাচাই-বাছাই শেষে মামলার এজাহারের প্রেক্ষিতে আসামিদের গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে এবং পলাতক আসামিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। এদিকে, চাঁদাবাজির অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় এবং দলের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করায় আব্দুর রাজ্জাককে দলীয় পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন দিনাজপুর জেলা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক আবুজর সেতু।
এম.এম/সকালবেলা