
দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার অভিযোগে আজীবনের জন্য বহিষ্কৃত পাঁচ নেতার বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার করেছে বিএনপি। তাঁদের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে দলীয় হাই কমান্ড প্রাথমিক সদস্য পদ পুনর্বহালের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। আজ শনিবার (১০ জানুয়ারি) বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, ইতিপূর্বে দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গ এবং নীতি ও আদর্শবিরোধী কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে ওই পাঁচ নেতাকে বিএনপির প্রাথমিক সদস্য পদসহ সব পর্যায়ের দায়িত্ব থেকে বহিষ্কার করা হয়েছিল। পরবর্তীতে তাঁরা দলীয় ফোরামে আবেদন করলে তা পর্যালোচনা করে বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নেয় বিএনপির নীতিনির্ধারণী মহল। এর ফলে তাঁরা পুনরায় দলটির প্রাথমিক সদস্য হিসেবে অন্তর্ভুক্ত হলেন।
পুনর্বহাল হওয়া নেতারা হলেন: ১. জিয়াউল হক মাসুম, সাবেক সদস্য সচিব, ১৮ নম্বর ওয়ার্ড, বরিশাল মহানগর বিএনপি। ২. কাজী মো. সাহিন, সাবেক সভাপতি, বরিশাল জেলা তাঁতীদল। ৩. মো. আবুল হোসেন প্রধানীয়া, সাবেক সদস্য, চাঁদপুর জেলা বিএনপি। ৪. মো. আব্দুল মতিন মেম্বার, সাবেক সিনিয়র সহ-সভাপতি, ছেংগারচর পৌর বিএনপি, মতলব উত্তর। ৫. জিয়াউর রহমান জিহাদ, নেতা, টেকনাফ সদর ইউনিয়ন বিএনপি, কক্সবাজার।
দলীয় সূত্র জানায়, বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে অনুষ্ঠিত বিভিন্ন নির্বাচনে দলীয় সিদ্ধান্ত উপেক্ষা করে অংশ নেওয়ায় তাঁদের শোকজ করা হয়েছিল। সে সময় তাঁদের জবাব সন্তোষজনক না হওয়ায় ‘আজীবন বহিষ্কারের’ মতো কঠোর সিদ্ধান্ত নেয় দল। ওই সময় প্রেরিত দলীয় চিঠিতে তাঁদের কর্মকাণ্ডকে গণতন্ত্রকামী জনগণের সঙ্গে ‘বিশ্বাসঘাতকতা’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছিল। এমনকি তাঁদের নাম ইতিহাসে ‘বেঈমান’ ও ‘মীর জাফর’ হিসেবে উচ্চারিত হবে বলেও কঠোর হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছিল।
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে দীর্ঘদিন পর সেই কঠোর অবস্থান থেকে সরে এসে তাঁদের দলে ফিরিয়ে নেওয়াকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। কেউ কেউ একে দল পুনর্গঠন ও নির্বাচনের আগে সাংগঠনিক ঐক্য সুদৃঢ় করার কৌশল হিসেবে দেখছেন। তবে দলের ত্যাগী ও নিবেদিতপ্রাণ কর্মীদের একটি অংশ এই সিদ্ধান্ত নিয়ে কিছুটা বিস্ময় প্রকাশ করেছেন।
মারুফ/সকালবেলা