
নিজস্ব প্রতিবেদক, যশোর: যশোরের বিএনপি নেতা আলমগীর হোসেন হত্যাকাণ্ডের রহস্য উন্মোচন করেছে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। তদন্তে বেরিয়ে এসেছে চাঞ্চল্যকর তথ্য—মেয়ের জামাই পরশের পরিকল্পনা ও তার দেওয়া অস্ত্রেই খুন হয়েছেন এই নেতা। হত্যাকাণ্ডে সরাসরি অংশ নেওয়া ‘শুটার’ ত্রিদিব চক্রবর্তী মিশুক আদালতে দেওয়া জবানবন্দিতে এসব তথ্য ফাঁস করেছেন।
বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় তাকে আদালতে সোপর্দ করা হলে তিনি হত্যার দায় স্বীকার করে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দেন। বিচারক অতিরিক্ত চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আছাদুল ইসলাম জবানবন্দি গ্রহণ শেষে তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।
এর আগে বুধবার (৭ জানুয়ারি) গভীর রাতে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে যশোর শহরের বেজপাড়া মন্দির সংলগ্ন এলাকা থেকে ত্রিদিব চক্রবর্তী মিশুককে গ্রেপ্তার করে ডিবি। ত্রিদিব ওই এলাকার চিরুনি কল মোড়ের পুরোহিত মিহির চক্রবর্তী ত্রিনাথের ছেলে।
যশোর ডিবির ওসি শেখ মোহাম্মদ আলী জানান, হত্যাকাণ্ডের পর ঘটনাস্থল ও আশপাশের সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে প্রথমে ত্রিদিবকে শনাক্ত করা হয়। পরবর্তীতে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় মোবাইল ফোন ট্র্যাকিং করে তার অবস্থান নিশ্চিত হয়ে অভিযান চালানো হয়।
আদালত ও পুলিশ সূত্র জানায়, জবানবন্দিতে ত্রিদিব হত্যার দায় স্বীকারের পাশাপাশি মূল পরিকল্পনাকারীদের নাম প্রকাশ করেছেন। তিনি জানান, এই হত্যাকাণ্ডের মূল মাস্টারমাইন্ড ছিলেন নিহত আলমগীরের ‘মেয়ে জামাই’ পরশ ও প্রতিবেশী সাগর।
ঘটনার বিবরণ দিয়ে ত্রিদিব বলেন, ঘটনার দিন সন্ধ্যার আগে প্রিন্স নামে এক সহযোগী তাকে মোটরসাইকেলে করে নিয়ে যায়। সেখানে পরশ, সাগর ও অমিসহ বেশ কয়েকজনের সঙ্গে তার দেখা হয়। আলোচনার একপর্যায়ে জামাই পরশ তার শ্বশুরকে হত্যার জন্য ত্রিদিবকে অস্ত্র ও টাকার জোগান দেন। এরপর ত্রিদিব সহযোগী অমির মোটরসাইকেলে চড়ে আলমগীরের পিছু নেন এবং সুযোগ বুঝে নিজেই গুলি করে মৃত্যু নিশ্চিত করেন। হত্যার পর থেকে তিনি নিজ বাড়িতেই আত্মগোপনে ছিলেন।
উল্লেখ্য, গত ৩ জানুয়ারি রাতে নিজ এলাকায় দুর্বৃত্তদের গুলিতে নিহত হন বিএনপি নেতা আলমগীর হোসেন। এ ঘটনায় নিহতের স্ত্রী শামীমা বাদী হয়ে জামাই পরশ ও সাগরসহ অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন। মামলার পর থেকেই ডিবি পুলিশ মূল শুটার ও জড়িতদের গ্রেপ্তারে অভিযান শুরু করে।
এম.এম/সকালবেলা