
ভারতকে বাংলাদেশের দিকে আওয়ামী লীগের চশমা দিয়ে না তাকিয়ে এদেশের সাধারণ মানুষের দৃষ্টিতে তাকানোর আহ্বান জানিয়েছেন কুমিল্লা-৪ আসনের জামায়াত সমর্থিত জোটের প্রার্থী ও জাতীয় নাগরিক পার্টি-এনসিপির দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আবদুল্লাহ। তিনি সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, ভারতের সাথে বাংলাদেশের সম্পর্ক হবে ন্যায্যতার ভিত্তিতে এবং দুই দেশের জনগণের সাথে জনগণের।
বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি) সকালে কুমিল্লার দেবিদ্বার উপজেলার গুনাইঘর উত্তর ইউনিয়নের বাকসার বাজার মসজিদের সামনে শহীদ শরিফ ওসমান হাদির মাগফিরাত কামনায় আয়োজিত এক দোয়া অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, “ভারত যদি আওয়ামী লীগের দৃষ্টিতে বাংলাদেশকে দেখার চেষ্টা করে, তাহলে সেটা হবে এই প্রজন্মকে মিস রিডিং।”
শহীদ শরিফ ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ডের তীব্র নিন্দা জানিয়ে হাসনাত আবদুল্লাহ অভিযোগ করেন, দীর্ঘ ছয় মাসের পরিকল্পনায় হাদি ভাইকে হত্যা করা হয়েছে। তিনি দাবি করেন, খুনিদের ভারত থেকে পুশ করা হয়েছিল এবং মিশন শেষ করে তারা পুনরায় ভারতে পালিয়ে গেছে। তিনি গণমাধ্যমকে বলেন, “প্রকাশ্য দিবালোকে ওসমান হাদিকে হত্যা করা হলেও আমাদের দেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের অথর্ব প্রশাসন, অথর্ব বিচার বিভাগ, গোয়েন্দা সংস্থা ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী প্রধান আসামিদের এখনও গ্রেফতার করতে পারেনি।”
হাসনাত আরও বলেন, ওসমান হাদি শিখিয়ে গেছেন রাজনীতি হওয়া উচিত গণমানুষের। যখন রাজনীতি মানুষ থেকে আলাদা হয়ে যায়, তখন তা ‘ক্ষমতারনীতি’তে রূপ নেয়। শহীদ হাদির হত্যার বিচার নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত লড়াই চালিয়ে যাওয়ার অঙ্গীকার করেন তিনি।
আসন্ন নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বর্তমান রাজনীতিতে দুটি পক্ষ তৈরি হয়েছে উল্লেখ করে হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, একটি পক্ষ গোলামির এবং অন্যটি আজাদি বা স্বাধীনতার। তিনি জনগণকে ইনসাফ ও স্বাধীনতার পক্ষে অবস্থান নেওয়ার আহ্বান জানান। ঋণখেলাপি ও অর্থ পাচারকারীদের কঠোর সমালোচনা করে তিনি বলেন, যারা জনগণের টাকা মেরে বিদেশে সন্তানদের মানুষ করছে, তাদের বিরুদ্ধে লড়াই চলবে। জনগণের টাকা মেরে জনসেবা করার কোনো প্রয়োজন নেই।
মতভিন্নতা থাকলেও ইনসাফ ও ন্যায়ের প্রশ্নে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানিয়ে তিনি তাঁর বক্তব্য শেষ করেন। দোয়া অনুষ্ঠানে দেবিদ্বার উপজেলা জামায়াত ও এনসিপির স্থানীয় নেতা-কর্মীসহ সাধারণ মানুষ উপস্থিত ছিলেন।
মারুফ/সকালবেলা