
আন্তর্জাতিক ডেস্ক: পারস্পরিক শুল্ক ও রাশিয়ার তেল কেনা নিয়ে উত্তেজনার মধ্যেই ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে দেখা করতে চেয়েছিলেন। মঙ্গলবার (৬ জানুয়ারি) ওয়াশিংটনে হাউস রিপাবলিকান পার্টির (জিওপি) সদস্যদের এক রিট্রিট অনুষ্ঠানে দেওয়া বক্তব্যে ট্রাম্প নিজেই এই দাবি করেছেন।
মোদির সাক্ষাৎ প্রসঙ্গ: বক্তব্যে ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেন, রাশিয়ার কাছ থেকে তেল কেনা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ভারতের সম্পর্কের টানাপড়েন চলছিল। ঠিক সেই সময়েই প্রধানমন্ত্রী মোদি তার সঙ্গে দেখা করতে চেয়েছিলেন। ট্রাম্পের ভাষায়, ‘‘মোদি বলেছিলেন, ‘স্যার, আমি কি আপনার সঙ্গে দেখা করতে পারি?’ আমি তখন ‘হ্যাঁ’ সূচক জবাব দিয়েছিলাম।’’
ট্রাম্প আরও বলেন, ‘‘ওনার (নরেন্দ্র মোদি) সঙ্গে আমার খুব ভালো সম্পর্ক। তবে তিনি খুব একটা খুশি নন, কারণ এখন তারা অনেক বেশি ট্যারিফ (শুল্ক) দিচ্ছেন।’’
অ্যাপাচি হেলিকপ্টার নিয়ে বিভ্রান্তি: অনুষ্ঠানে ট্রাম্প দাবি করেন, ভারত ৬৮টি অ্যাপাচি হেলিকপ্টার অর্ডার দিয়েছে এবং এগুলোর জন্য নয়াদিল্লিকে পাঁচ বছর অপেক্ষা করতে হয়েছে। তবে ট্রাম্পের এই সংখ্যার সঙ্গে বাস্তব তথ্যের মিল পাওয়া যায়নি। ‘টাইমস অব ইন্ডিয়া’র তথ্যমতে, ভারত মোট ২৮টি অ্যাপাচি হেলিকপ্টার অর্ডার করেছিল এবং গত বছরের ডিসেম্বরের মধ্যে সেগুলোর সবকটি সরবরাহ করা হয়েছে। এ বিষয়ে নয়াদিল্লির পক্ষ থেকে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য করা হয়নি।
শুল্ক ও রাশিয়ার তেল: ইউক্রেন যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে ২০২২ সাল থেকে ভারত রাশিয়া থেকে ছাড়মূল্যে অপরিশোধিত তেল কেনা বাড়ায়। এ কারণে ট্রাম্প প্রশাসন ভারতীয় পণ্যের ওপর মোট ৫০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করে। ট্রাম্প দাবি করেন, শুল্ক আরোপের ফলে ভারত বর্তমানে রাশিয়ার কাছ থেকে তেল কেনা অনেকটাই কমিয়ে দিয়েছে।
উল্লেখ্য, বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রই ভারতের সবচেয়ে বড় বাণিজ্যিক অংশীদার। ২০২৪ সালে দুই দেশের মধ্যে পণ্য ও সেবা বাণিজ্যের পরিমাণ ছিল আনুমানিক ২১২ বিলিয়ন ডলার।