
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী, জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) এবং ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশসহ ১১ দলীয় জোটের আত্মপ্রকাশ ঘটলেও এখনো চূড়ান্ত হয়নি আসন সমঝোতা। ৩০০ আসনের বিপরীতে জোটভুক্ত দলগুলোর ৬০০-এর বেশি প্রার্থী মনোনয়নপত্র জমা দিয়ে রাখায় কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে কিছুটা বিভ্রান্তি ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তবে জোট নেতারা দাবি করেছেন, ১৯ জানুয়ারি মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের আগেই এই জট খুলে যাবে।
জোটের নির্ভরযোগ্য সূত্রের খবর অনুযায়ী, জামায়াত শরিকদের জন্য অন্তত ১১০টি আসন ছেড়ে দেওয়ার প্রাথমিক পরিকল্পনা করেছে। যদিও দলগুলোর দাবি অনুযায়ী এই সংখ্যা আরও বাড়তে পারে। নিচে একটি সম্ভাব্য খসড়া তালিকা দেওয়া হলো:
| দল | সম্ভাব্য আসন সংখ্যা | শীর্ষ প্রার্থী (আলোচনাধীন) |
| ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ | ৩৫ - ৭০ | সৈয়দ ফয়জুল করীম (বরিশাল-৫) |
| জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) | ৩০ - ৪০ | নাহিদ ইসলাম (ঢাকা-১১), সারজিস আলম (পঞ্চগড়-১) |
| খেলাফত মজলিস | ১৫ | মাওলানা মামুনুল হক (নারায়ণগঞ্জ-২) |
| এলডিপি | ৩ | কর্নেল (অব.) অলি আহমদ (চট্টগ্রাম-১৪) |
| এবি পার্টি | ৩ | ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদ (বরিশাল-৩) |
এনসিপির পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, তারা ১০টি আসন পাচ্ছে বলে যে গুঞ্জন রয়েছে তা সঠিক নয়। দলটির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক আরিফুল ইসলাম আদীব জানান, তারা ৩০ থেকে ৩৫টি আসনের লক্ষ্য নিয়ে আলোচনা করছেন। এনসিপি থেকে যাদের প্রার্থিতা প্রায় নিশ্চিত:
নাহিদ ইসলাম: ঢাকা-১১
সারজিস আলম: পঞ্চগড়-১
হাসনাত আব্দুল্লাহ: কুমিল্লা-৪
আখতার হোসেন: রংপুর-৪
নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী: ঢাকা-৮
এসব আসনে জামায়াতের প্রার্থীরা এনসিপি নেতাদের সমর্থন জানিয়ে সরে দাঁড়িয়েছেন বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে।
আসন সমঝোতা নিয়ে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ তৈরি হয়েছে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশকে নিয়ে। দলটি শুরুতে ১২০-১৫০ আসন চাইলেও বর্তমানে অন্তত ৭০টি আসনের দাবিতে অনড় রয়েছে। দলটির জ্যেষ্ঠ নায়েবে আমির সৈয়দ মুহাম্মাদ ফয়জুল করীম ইনসাফভিত্তিক বণ্টনের ওপর জোর দিয়েছেন। জামায়াত এই দলটিকে ৩৫-৪০টি আসন ছাড়ার পক্ষে থাকায় কিছুটা দূরত্ব তৈরি হয়েছে।
জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদ গণমাধ্যমকে বলেন, “মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের আগেই সবকিছু চূড়ান্ত হবে। আসন সমঝোতা নিয়ে বড় কোনো সংকট আমরা দেখছি না। শঙ্কার চেয়ে প্রোপাগান্ডা বেশি। কিছু সংকট থাকলে সেটি আমরা আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করে নেব।”
মারুফ/সকালবেলা