
ক্রীড়া প্রতিবেদক: নিরাপত্তা শঙ্কায় টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ খেলতে ভারতে দল না পাঠানোর চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানিয়ে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিলকে (আইসিসি) ই-মেইল পাঠিয়েছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। রোববার (৪ জানুয়ারি) পাঠানো ওই বার্তায় বাংলাদেশের ম্যাচগুলো ভারত থেকে সরিয়ে শ্রীলঙ্কায় আয়োজনের আনুষ্ঠানিক প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। তবে ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড (বিসিসিআই) এমন প্রস্তাবকে ‘লজিস্টিক দুঃস্বপ্ন’ উল্লেখ করে তা বাস্তবায়ন অসম্ভব বলে মন্তব্য করেছে।
আগামী মাসেই ভারত ও শ্রীলঙ্কায় যৌথভাবে বসতে যাচ্ছে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের আসর। শেষ মুহূর্তে ভেন্যু নিয়ে তৈরি হওয়া এই জটিলতায় বিশ্বকাপের সূচি নিয়ে বড় ধরনের অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে।
বিসিবির বার্তা ও সরকারের অবস্থান: আইপিএলে মোস্তাফিজুর রহমানকে নিয়ে অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার জেরেই মূলত এই কঠোর অবস্থানে গেছে বাংলাদেশ। কট্টরপন্থী সাম্প্রদায়িক গোষ্ঠীর চাপে বিসিসিআইয়ের নির্দেশে কলকাতা নাইট রাইডার্স (কেকেআর) ৯ কোটি ২০ লাখ রুপিতে কেনা মোস্তাফিজকে ছেড়ে দিতে বাধ্য হয়।
এ ঘটনায় ক্ষুব্ধ হয়ে শনিবার রাতে ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ নজরুল ফেসবুকে লেখেন, ‘‘ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত উপদেষ্টা হিসেবে আমি ক্রিকেট বোর্ডকে নির্দেশ দিয়েছি পুরো বিষয়টি লিখিতভাবে আইসিসিকে জানাতে। চুক্তির আওতায় থেকেও যদি কোনো বাংলাদেশি ক্রিকেটার ভারতে খেলতে না পারেন, তাহলে জাতীয় দল বিশ্বকাপ খেলতে ভারতে গেলে নিরাপদ বোধ করবে না।’’ উপদেষ্টার নির্দেশনার পরই রোববার আইসিসিকে মেইল দেয় বিসিবি।
বিসিসিআইয়ের প্রতিক্রিয়া: বিসিবির চিঠির বিষয়ে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি বিসিসিআইয়ের এক দায়িত্বশীল সূত্রের বরাতে জানিয়েছে, বিশ্বকাপের মতো মেগা ইভেন্টের সূচি শেষ মুহূর্তে বদলে ফেলা ‘কোনোভাবেই সম্ভব নয়’।
বিসিসিআই সূত্র এনডিটিভিকে বলে, ‘‘এটা একেবারেই ‘লজিস্টিক দুঃস্বপ্ন’ (Logistic Nightmare)। প্রতিটি ম্যাচের সঙ্গে প্রতিপক্ষ দলগুলোর বিমান টিকিট, হোটেল বুকিং ও সম্প্রচার স্বত্বসহ অসংখ্য কারিগরি ও প্রশাসনিক বিষয় জড়িত থাকে। প্রতিদিন তিনটি করে ম্যাচ থাকায় একটি ম্যাচ স্থানান্তর করা মানে পুরো টুর্নামেন্টের ব্যবস্থাপনা ভেঙে পড়া, যা এই মুহূর্তে সামাল দেওয়া অসম্ভব।’’
পাকিস্তান রাজনৈতিক কারণে আগে থেকেই শ্রীলঙ্কায় খেলছে উল্লেখ করে বিসিসিআইয়ের ওই কর্মকর্তা বলেন, ‘‘পাকিস্তানের বিষয়টি অনেক আগেই নির্ধারিত ছিল। কিন্তু বাংলাদেশের ক্ষেত্রে শেষ মুহূর্তে এমন দাবি মানা কঠিন।’’
এম.এম/সকালবেলা