
চাঁপাইনবাবগঞ্জ প্রতিনিধি: ‘‘আপনারা আওয়ামী লীগ থেকে জামায়াতে জয়েন করেন। বিএনপি থেকে জামায়াতে জয়েন করেন। আপনাদের দায়িত্ব আমরা নেব। জেলখানা, নবাবগঞ্জ থানা, যেকোনো দায়-দায়িত্ব আমরা নেব ইনশাআল্লাহ।’’
কথাগুলো বলেছেন জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য ও চাঁপাইনবাবগঞ্জ-৩ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য লতিফুর রহমান। মঙ্গলবার (৩০ ডিসেম্বর) বিকেলে চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলার ফাটাপাড়া মদনমোড় এলাকায় এক উঠান বৈঠকে তিনি এসব কথা বলেন। বৃহস্পতিবার (১ জানুয়ারি) তার বক্তব্যের দুটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়।
‘এখনকার জামায়াত অনেক শক্তিশালী’: ভাইরাল হওয়া ভিডিওতে লতিফুর রহমানকে বেশ দাপটের সঙ্গে কথা বলতে শোনা যায়। তিনি বলেন, ‘‘জামায়াতকে আইগ্যা (আগের) জামায়াত মনে করিয়েন না। এখনকার জামায়াত অনেক শক্তিশালী। নবাবগঞ্জের সমগ্র সমস্যা এখন লতিফুর রহমান দেখে।’’
প্রশাসনের ওপর নিজের প্রভাবের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘‘হ্যালো ওসি সাহেব, হ্যালো এসপি সাহেব, হ্যালো ডিআইজি সাহেব—লতিফুর রহমানকে করে। কোনো লিডারের কাছে মানুষ যায় না। যারা আওয়ামী লীগ থেকে এসেছেন, নির্দ্বিধায় এখানে থাকবেন। আপনাদের আইন-আদালত, কোর্ট-কাচারি, থানা—আমরা দায়িত্ব নেব।’’
ধর্মীয় ব্যাখ্যা: বক্তব্যে তিনি রাজনৈতিক দল ত্যাগের আহ্বান জানাতে গিয়ে ধর্মীয় প্রসঙ্গও টেনে আনেন। তিনি বলেন, ‘‘আল্লাহর দল ছাড়া মানুষের গড়া দল করা যাবে না। আমার কথা নয়, কোরআনের কথা। আল্লাহ বলছেন, আমি তোমাদের ভালো কাজের, মন্দ কাজের জাররা জাররা হিসাব নেব।’’
লতিফুর রহমানের ব্যাখ্যা: ভিডিও ভাইরালের পর বৃহস্পতিবার সকালে লতিফুর রহমানের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বিষয়টি স্বীকার করেন। তিনি বলেন, ‘‘আমি শুধু আওয়ামী লীগকে নয়, বিএনপির লোকজনকেও জামায়াতে যোগ দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছি। ইসলামের পথে আসার আহ্বান জানিয়েছি।’’
নিষিদ্ধ ঘোষিত বা কোণঠাসা আওয়ামী লীগের কেউ তার আহ্বানে সাড়া দিয়ে জামায়াতে যোগ দিয়েছেন কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, ‘‘না, নেতা পর্যায়ের কেউ এখনো যোগ দেননি।’’
এম.এম/সকালবেলা