
দেশের ক্রমবর্ধমান জনঅসন্তোষ ও ক্ষোভ প্রশমনে কেন্দ্রীয় সরকার দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ না করলে ভারত অদূর ভবিষ্যতে বাংলাদেশ ও নেপালের থেকেও গুরুতর রাজনৈতিক ও সামাজিক সংকটের মুখে পড়তে পারে বলে কঠোর সতর্কবার্তা উচ্চারণ করেছেন ঝাড়খণ্ডের স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রী এবং প্রবীণ কংগ্রেস নেতা ইরফান আনসারি।
সম্প্রতি ভারতের শীর্ষস্থানীয় বার্তা সংস্থা প্রেস ট্রাস্ট অব ইন্ডিয়া (পিটিআই)-কে দেওয়া এক এক্সক্লুসিভ সাক্ষাৎকারে নির্বাচন কমিশনের ভোটার তালিকা সংশোধন বা এসআইআর (SIR) প্রক্রিয়া এবং দেশের সার্বিক রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে কথা বলতে গিয়ে এই বিস্ফোরক মন্তব্য করেন তিনি।
সাক্ষাৎকারে ইরফান আনসারি দাবি করেন, ভারতের বর্তমান সার্বিক অবস্থা এখন ‘ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে’ এসে পৌঁছেছে। দেশের কৃষক, মধ্যবিত্ত, দলিত, আদিবাসী এবং সংখ্যালঘু সম্প্রদায়সহ সমাজের প্রায় প্রতিটি স্তর আজ চরম অনিশ্চয়তা ও মারাত্মক সংকটের সম্মুখীন। তাঁর দাবি, রাজধানী দিল্লিতেই প্রায় ৪০ লাখ তরুণ রাস্তায় নেমে কঠোর আন্দোলনের প্রস্তুতি নিচ্ছেন। তবে কংগ্রেস সংসদ সদস্য রাহুল গান্ধীর কঠোর নির্দেশ ও সংযমের কারণেই এতদিন এই যুবসমাজ সংযত রয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। পরিস্থিতি যদি সরকারের হাতছাড়া হয়ে যায়, তবে কেবল পুলিশ বা সেনাবাহিনী দিয়ে সেই বিশাল গণরোষ দমন করা সম্ভব হবে না বলেও মন্তব্য করেন এই কংগ্রেস মন্ত্রী। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির উদ্দেশে তিনি বলেন, সময় থাকতে দ্রুত এই পরিস্থিতি সামাল না দিলে দেশজুড়ে জরুরি অবস্থার মতো ভয়াবহ পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে।
নির্বাচন কমিশনের বিতর্কিত ভোটার তালিকা সংশোধন বা এসআইআর (SIR) প্রক্রিয়া নিয়ে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ প্রকাশ করেন ঝাড়খণ্ডের এই মন্ত্রী। প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের ভূমিকা নিয়ে প্রকাশ্যেই প্রশ্ন তুলে তিনি দাবি করেন, এই প্রক্রিয়ার আড়ালে ভোটার তালিকা থেকে প্রায় ১৩ কোটি মানুষের নাম অন্যায়ভাবে বাদ দেওয়া হয়েছে, যা অত্যন্ত উদ্বেগজনক।
উল্লেখ্য, এই ভোটার তালিকা সংশোধন প্রক্রিয়ায় ব্যাপক অনিয়ম ও পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ তুলে ইতিমধ্যেই দেশজুড়ে সরব হয়েছে বিরোধী ‘ইন্ডিয়া’ (INDIA) জোট এবং গত ১ নভেম্বর দিল্লিতে একটি বিশাল মহাসমাবেশও অনুষ্ঠিত হয়েছে। অন্যদিকে, নির্বাচন কমিশন ও কেন্দ্রীয় সরকারের পক্ষ থেকে সাফ জানানো হয়েছে যে, তালিকায় থাকা ভুয়া ও দ্বৈত ভোটারদের বাদ দিয়ে সম্পূর্ণ স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতেই এই তালিকা হালনাগাদ করার কাজ চালানো হচ্ছে।
এদিকে ইরফান আনসারির এই মন্তব্য প্রকাশ্যে আসার পর থেকেই ভারতীয় জাতীয় রাজনীতিতে তুমুল তোলপাড় শুরু হয়েছে। বিজেপির জাতীয় মুখপাত্র প্রদীপ ভান্ডারি মন্ত্রীর এই বক্তব্য সংবলিত একটি ভিডিও ক্লিপ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শেয়ার করে একে ‘নৈরাজ্যের প্রকাশ্য ও বিপজ্জনক আহ্বান’ বলে তীব্র ভাষায় আক্রমণ করেছেন এবং তাঁর বিরুদ্ধে অবিলম্বে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
অন্যদিকে, উসকানিমূলক মন্তব্য ও দেশে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টার অভিযোগ এনে উগ্র হিন্দুত্ববাদী সংগঠন বিশ্ব হিন্দু পরিষদ (VHP) ঝাড়খণ্ড মন্ত্রিসভা থেকে ইরফান আনসারিকে অবিলম্বে বরখাস্ত করার তীব্র দাবি জানিয়েছে।