
সামজাদ জসি (সিনিয়র স্টাফ রিপোর্টার): ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলার বাসুদেব ইউনিয়ন থেকে ছয়টি গ্রাম কেটে অন্য উপজেলায় যুক্ত করা এবং সদর উপজেলাকে বিভক্ত করে নতুন উপজেলা গঠনের প্রস্তাবের প্রতিবাদে তীব্র আন্দোলন ও সড়ক-রেলপথ অবরোধ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। সাবেক চেয়ারম্যান ও স্থানীয় বিএনপি নেতাসহ সর্বস্তরের জনগণের এই বিক্ষোভে ঢাকা-চট্টগ্রাম ও ঢাকা-সিলেট রেলপথে ট্রেন চলাচল সাময়িকভাবে বন্ধ হয়ে যায়। একই সঙ্গে আখাউড়া-আগরতলা আন্তর্জাতিক সড়কে যান চলাচল ব্যাহত হয়।
রোববার (৮ নভেম্বর) সকাল থেকে সদর উপজেলার কোড্ডা কেবিন এলাকায় কাফনের কাপড় মাথায় বেঁধে বিক্ষোভে অংশ নেন আন্দোলনকারীরা। পরে জেলা পরিষদের প্রশাসক আলহাজ্ব সিরাজুল ইসলামের আশ্বাসে ৭২ ঘণ্টার জন্য আন্দোলন স্থগিত ঘোষণা করা হয়।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, চলতি বছরের মে মাসে সদর উপজেলার বাসুদেব ইউনিয়ন থেকে কোড্ডা, বৈষ্ণবপুর, শ্যামনগর, কোড়াবাড়ি, চান্দি ও বরিশল—এই ছয়টি গ্রাম আলাদা করে ‘বরিশল’ নামে একটি নতুন ইউনিয়ন গঠন করে তা আখাউড়া উপজেলার সঙ্গে যুক্ত করা হয় এবং গত ৪ জুন এর গেজেট প্রকাশিত হয়। এই সিদ্ধান্তের তীব্র বিরোধিতার পাশাপাশি সম্প্রতি সদর উপজেলার অংশবিশেষ নিয়ে একটি নতুন উপজেলা গঠনের প্রস্তাব সামনে আসায় ক্ষোভ আরও তীব্র হয়। আন্দোলনকারীদের অভিযোগ, কোনো ধরনের জনমত যাচাই ছাড়াই জনস্বার্থের পরিপন্থী এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
সকাল থেকে চলা এই আকস্মিক অবরোধের ফলে ঢাকা-চট্টগ্রাম ও ঢাকা-সিলেট রেলপথে অচলাবস্থা তৈরি হয় এবং পারাবত এক্সপ্রেস, পর্যটক এক্সপ্রেস, মহানগর গোধূলি ও সুবর্ণ এক্সপ্রেসসহ গুরুত্বপূর্ণ ট্রেনের চলাচল ব্যাহত হয়। এতে নারী ও শিশুসহ সাধারণ যাত্রীরা চরম দুর্ভোগে পড়েন। এছাড়া আখাউড়া-আগরতলা সড়কে যান চলাচল বন্ধ থাকায় ভারতগামী যাত্রী ও আন্তর্জাতিক পণ্য পরিবহনও থমকে দাঁড়ায়।
খبر পেয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খাইরুল আলমের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। পরবর্তীতে জেলা পরিষদের প্রশাসক আলহাজ্ব সিরাজুল ইসলাম ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে দাবিগুলো সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে তুলে ধরার আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা ৭২ ঘণ্টার জন্য অবরোধ কর্মসূচি স্থগিত করেন। প্রশাসন এই সময়ের মধ্যে কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে আরও কঠোর কর্মসূচি দেওয়া হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন স্থানীয় নেতারা।
এআইএল/সকালবেলা