
বিশেষ প্রতিনিধি: নওগাঁর একটি বেসরকারি ক্লিনিকে সিজারিয়ান অস্ত্রোপচারের পর গর্ভে যমজ সন্তান থাকার পরও এক নবজাতককে না পাওয়ার অভিযোগ তুলেছেন এক দম্পতি। আল্ট্রাসনোগ্রামের দুটি প্রতিবেদনে দুটি জীবিত ভ্রূণের কথা উল্লেখ থাকলেও সিজারের পর তাঁদের হাতে মাত্র একটি কন্যাসন্তান তুলে দেওয়া হয়। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী পরিবার নওগাঁ সদর থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছে।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, শান্ত ইসলামের স্ত্রী অন্তঃসত্ত্বা হওয়ার পর গত ১২ ও ২১ অক্টোবর দুটি পৃথক ডায়াগনস্টিক সেন্টারে আল্ট্রাসনোগ্রাম করান। আক্কেলপুরের ডিজিটাল ডায়াগনস্টিক সেন্টার এবং নওগাঁর রি-লাইফ ডায়াগনস্টিক সেন্টারের উভয় প্রতিবেদনে গর্ভে দুটি জীবিত ভ্রূণ, তাদের হৃদস্পন্দন ও সম্ভাব্য ওজন স্পষ্টভাবে উল্লেখ ছিল।
গত বৃহস্পতিবার বিকেলে চিকিৎসক ডা. মাহফুজা খাতুনের পরামর্শে শান্তনার প্রসববেদনা উঠলে তাঁকে নওগাঁর বলাকা ক্লিনিকে ভর্তি করা হয়। পরে ওই চিকিৎসকের তত্ত্বাবধানেই তাঁর সিজার সম্পন্ন হয়। কিন্তু অস্ত্রোপচারের পর পরিবারকে শুধু একটি কন্যাসন্তান দেওয়া হয় এবং অপর সন্তানের বিষয়ে জানতে চাইলে চিকিৎসক ও ক্লিনিক কর্তৃপক্ষ নানা টালবাহানা শুরু করে।
প্রসূতি শান্তনা আক্তারের অভিযোগ, অপর সন্তানের বিষয়ে জানতে চাওয়ায় সিজারের পর তাঁর কাটা অংশ সেলাই না করে দীর্ঘক্ষণ ফেলে রাখা হয়। এমনকি এ সময় তাঁকে ভয়ভীতি দেখিয়ে জোরপূর্বক ভিডিও ধারণ করা হয় বলেও তিনি দাবি করেন। পরে শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটলে ক্লিনিকের শর্ত মেনে নেওয়ার আশ্বাসে সেলাই সম্পন্ন করা হয়।
এ বিষয়ে বলাকা ক্লিনিকের মালিক এনামুল হক জানান, রোগী ডা. মাহফুজার তত্ত্বাবধানে ভর্তি হয়েছিলেন এবং তিনিই অস্ত্রোপচার করেছেন; তাই এ বিষয়ে চিকিৎসকই ভালো বলতে পারবেন। তবে অভিযুক্ত চিকিৎসক ডা. মাহফুজা খাতুনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলেও তিনি কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।
নওগাঁর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মুহাম্মদ মনিরুল ইসলাম জানান, নবজাতকের বাবা থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। পুলিশ বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করছে এবং তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এআইএল/সকালবেলা