
নিজস্ব প্রতিবেদক: ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদি হত্যার বিচার নিশ্চিতে দ্রুত বিচারিক ট্রাইব্যুনাল গঠন এবং তদন্তকাজে এফবিআই ও স্কটল্যান্ড ইয়ার্ডের মতো আন্তর্জাতিক পেশাদার ইন্টেলিজেন্স সংস্থার সহায়তা নেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে। একইসঙ্গে বিচার নিশ্চিত না হলে সরকার পতনের আন্দোলনের হুঁশিয়ারিও দিয়েছে সংগঠনটি।
সোমবার (২২ ডিসেম্বর) দুপুর ১২টায় শাহবাগ জাতীয় জাদুঘরের সামনে আয়োজিত এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে ইনকিলাব মঞ্চের সদস্যসচিব আব্দুল্লাহ আল জাবের এই দাবি জানান। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে অতিরিক্ত আইজিপির ব্রিফিং ও হত্যার ঘটনায় প্রশাসনের বক্তব্য প্রত্যাখ্যান করে এই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।
এফবিআই-স্কটল্যান্ড ইয়ার্ডের সহায়তা ও ট্রাইব্যুনাল: সংবাদ সম্মেলনে দুই দফা দাবি তুলে ধরে আব্দুল্লাহ আল জাবের বলেন, ‘‘দ্রুত বিচারিক ট্রাইব্যুনাল গঠন করতে হবে এবং ট্রাইব্যুনালের কাজে সহায়তার জন্য এফবিআই ও স্কটল্যান্ড ইয়ার্ডের মতো পেশাদার ইন্টেলিজেন্সের সহায়তা নিতে হবে। এই দুটি বিষয় অতি দ্রুত নিশ্চিত করতে হবে।’’
স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা ও সরকার পতনের হুঁশিয়ারি: ক্ষোভ প্রকাশ করে জাবের বলেন, ‘‘বাংলাদেশের জনগণ এই সরকারকে টিকিয়ে রাখার দায়িত্ব নেয়নি। এই সরকার যদি বিচার নিশ্চিত না করতে পারে, তবে তাদের থাকার কোনো দরকার নেই।’’
স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার পদত্যাগের গুঞ্জন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘‘পুরো ঘটনার সঙ্গে কারা কারা জড়িত, এটা নিশ্চিত করে আপনি এখান থেকে যাবেন। তার আগে বলবেন, কে এই খুনের তদন্ত করতে আপনাকে বাধা দিয়েছে। না বলে আপনার যাওয়ার কোনো সুযোগ নেই।’’
‘আগে বিচার, পরে নির্বাচন’: প্রধান উপদেষ্টাকে উদ্দেশ্য করে জাবের বলেন, ‘‘এত বড় একটা হত্যাকাণ্ড হলো, অথচ আপনার মুখে কোনো সুনির্দিষ্ট পদক্ষেপের কথা শুনিনি। আপনার অসহায়ত্ব আমরা দেখেছি। আপনাকে কে অসহায় করে তুলল তা জানাতে হবে। না জানিয়ে তড়িঘড়ি করে নির্বাচন দিয়ে চলে যাবেন, এটা হবে না। নির্বাচনের আগে বিচার নিশ্চিত করতে হবে, এরপর নির্বাচন।’’
আল্টিমেটাম ও কর্মসূচি: সংবাদ সম্মেলন সঞ্চালনা করেন ডাকসুর মুক্তিযুদ্ধ ও গণতান্ত্রিক আন্দোলন বিষয়ক সম্পাদক ফাতিমা তাসনিম জুমা। তিনি বলেন, ‘‘১১ দিনেও খুনি, পরিকল্পনাকারী ও মদদদাতা কারা তা নিয়ে সরকারের কাছ থেকে সুস্পষ্ট ব্যাখ্যা পাইনি। তাদের জবাবে আমরা সন্তুষ্ট নই।’’
সংবাদ সম্মেলন থেকে জানানো হয়, আজ বিকেল ৩টায় ইনকিলাব মঞ্চের পক্ষ থেকে বিক্ষোভ মিছিল করা হবে। সেখান থেকেই পরবর্তী কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে—সরকারের সঙ্গে তারা থাকবেন, নাকি সরকার পতনের আন্দোলন শুরু করবেন।
এম.এম/সকালবেলা