
বিশেষ প্রতিনিধি: যশোরের বকুলতলায় জুলাই স্মৃতিস্তম্ভে আগুন দেওয়ার চেষ্টা করেছে দুর্বৃত্তরা।
রোববার (১ নভেম্বর) দিবাগত গভীর রাতে স্মৃতিস্তম্ভের দক্ষিণ পাশে এ ঘটনা ঘটে।
আগুন দেওয়ার দৃশ্য ভিডিও করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে প্রচার করেছেন নিষিদ্ধঘোষিত যুবলীগের কয়েকজন নেতা। তবে আগুনে স্মৃতিস্তম্ভটি পুড়ে যায়নি বলে পুলিশ নিশ্চিত করেছে।
স্মৃতিস্তম্ভে আগুন দেওয়ার চেষ্টার তীব্র প্রতিবাদে সোমবার (২ নভেম্বর) বিকেলে জুলাই স্মৃতিস্তম্ভের পাদদেশে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ব্যানারে এক প্রতিবাদ সভা অনুষ্ঠিত হয়। এর আগে দুপুর ১২টার দিকে জেলা পুলিশের একটি উচ্চপর্যায়ের দল ঘটনাস্থল সরেজমিনে পরিদর্শন করে।
পুলিশ জানায়, স্মৃতিস্তম্ভের আশপাশে থাকা সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজে গভীর রাতে তিন যুবককে সেখানে যেতে দেখা গেছে। তাঁদের দুজন দাহ্য পদার্থ ব্যবহার করে স্মৃতিস্তম্ভের নিচে আগুন ধরিয়ে দেন এবং অন্যজন সেই দৃশ্য ভিডিও করেন। পুলিশ ভিডিও ফুটেজ সংগ্রহ করে ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত শনাক্ত করার কাজ চালিয়ে যাচ্ছে।
সূত্র আরও জানায়, যুবলীগ নেতা আনোয়ার হোসেন বিপুল, পৌরসভার সাবেক কাউন্সিলর আলমগীর কবির সুমন ও ছাত্রলীগের সদর উপজেলা শাখার সাবেক আহ্বায়ক রবিউল ইসলামসহ কয়েকজন তাঁদের নিজস্ব ফেসবুক পেজে আগুন দেওয়ার ওই ভিডিও প্রচার করেছেন।
এদিকে রোববার সকালে শহরের মাইকপট্টি এলাকায় সরকারবিরোধী ঝটিকা মিছিলের অভিযোগে কোতোয়ালি থানা এলাকা থেকে যুবলীগের ১৭ নেতাকর্মীকে আটক করেছে পুলিশ। তাঁদের মধ্যে সাতজন সরাসরি মিছিলে অংশ নিয়েছিলেন বলে জানিয়েছে আইন প্রয়োগকারী সংস্থাটি।
যশোরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) মিরাজুল ইসলাম জানান, জেলার ৯টি থানা ও ডিবি পুলিশের যৌথ অভিযানে নাশকতার অভিযোগে মোট ৪১ জনকে আটক করা হয়েছে। জেলাজুড়ে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে পুলিশের এই বিশেষ অভিযান অব্যাহত থাকবে।
এআইএল/সকালবেলা