
নাজমুল হাসান (মাদারীপুর): মাদারীপুরের শিবচরে অনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে দল থেকে অব্যাহতি পাওয়া জামায়াত নেতা তাইজুল ইসলামের বসতঘর ভেঙে গুঁড়িয়ে দিয়েছেন স্থানীয় জনতা। রোববার (১ নভেম্বর) সকালে উপজেলার নিলখী ইউনিয়নের পশ্চিম চরকামারকান্দি গ্রামে শত শত নারী-পুরুষ একত্রিত হয়ে এই বিক্ষোভে অংশ নেন।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সকালে অভিযুক্ত তাইজুলের শাস্তির দাবিতে ব্যানার হাতে নিয়ে ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী মানববন্ধনে অংশ নেন। পরবর্তীতে উত্তেজিত জনতা তাঁর বসতঘরটি সম্পূর্ণ ভেঙে ফেলেন। তবে এই ঘটনায় তাৎক্ষণিকভাবে ক্ষয়ক্ষতির সঠিক পরিমাণ জানা যায়নি।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, অভিযুক্ত তাইজুল ইসলাম দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় কবিরাজি চিকিৎসা করে আসছেন। গত ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর থেকে তিনি ওই ইউনিয়নে জামায়াতের প্রচার-প্রচারণার দায়িত্বে ছিলেন এবং স্থানীয়রা তাঁকে নিলখী ইউনিয়ন জামায়াতের সভাপতি (আমির) হিসেবে জানতেন।
গত ২৫ অক্টোবর তাইজুল ইসলামকে কেন্দ্র করে একটি আপত্তিকর ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। এর পর থেকেই এলাকায় তীব্র সমালোচনা ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। স্থানীয়দের অভিযোগ, এ ধরনের অনৈতিক কর্মকাণ্ডের ফলে পুরো গ্রামের সামাজিক সম্মান ক্ষুণ্ন হয়েছে।
ঘটনার জেরে গত ২৭ অক্টোবর বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর শিবচর উপজেলা শাখা একটি প্রেস বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে। বিজ্ঞপ্তিতে তাইজুল ইসলামকে নিলখী ইউনিয়ন শাখার সব ধরনের সাংগঠনিক কার্যক্রম থেকে অব্যাহতি দেওয়ার কথা জানানো হয়। এতে উল্লেখ করা হয়, নৈতিকতাবিরোধী কর্মকাণ্ডসংক্রান্ত অভিযোগ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আসার পর এই প্রাথমিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে এবং অভিযোগ প্রমাণিত হলে সাংগঠনিক নিয়ম অনুযায়ী চূড়ান্ত পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
এদিকে, অভিযুক্ত তাইজুল ইসলাম তাঁর ব্যক্তিগত ফেসবুক অ্যাকাউন্টে এক স্ট্যাটাস দিয়ে দাবি করেছেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ওই ভিডিওতে যে নারী দেখা গেছেন, তিনি তাঁর নিজের স্ত্রী।
এ বিষয়ে শিবচর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) কামাল হোসেন বলেন, “সকালে অভিযুক্ত তাইজুল ইসলামের শাস্তির দাবিতে এলাকার লোকজন মানববন্ধন করেছে বলে আমরা জানতে পেরেছি। পরবর্তীতে কিছু মানুষ তাঁর ঘরবাড়িতে ভাঙচুর চালায়। খবর পাওয়া মাত্রই পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। এ ঘটনায় আইনগত ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।”
এআইএল/সকালবেলা