আসামে মুসলিমদের ঘরবাড়ি ও মসজিদ ধ্বংসের নিন্দা ওলামা অ্যালায়েন্সের

প্রকাশ: শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৬, ১২:৪৯ অপরাহ্ণ
আসামে মুসলিমদের ঘরবাড়ি ও মসজিদ ধ্বংসের নিন্দা ওলামা অ্যালায়েন্সের

অনলাইন ডেস্ক: সম্প্রতি ভারতের আসামে বাঙালি মুসলিমদের ১ হাজার ১০০টিরও বেশি ঘরবাড়ি উচ্ছেদ এবং ১০টিরও বেশি মসজিদ ধ্বংসের খবরে গভীর উদ্বেগ ও তীব্র নিন্দা জানিয়েছে ন্যাশনাল ওলামা অ্যালায়েন্স।

আজ বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) গণমাধ্যমে পাঠানো এক যৌথ বিবৃতিতে সংগঠনটির আহবায়ক মাওলানা আশরাফ উদ্দিন মাহদি আযহারী বলেন, উগ্র হিন্দুত্ববাদী রাজনীতির প্রভাবে সংখ্যালঘু মুসলিমদের নাগরিক অধিকার ও ধর্মীয় স্বাধীনতা নিয়ে প্রায়ই উদ্বিগ্ন হতে হয় আমাদের। ১৯৯২ সালে ঐতিহাসিক বাবরি মসজিদ ধ্বংসের ঘটনা উপমহাদেশের ইতিহাসে ধর্মীয় অসহিষ্ণুতা ও সাম্প্রদায়িক বিভাজনের ধারাবাহিকতাই আসামের ঘটনা।

সদস্য সচিব মাওলানা সানাউল্লাহ খান বলেন, ভারত সরকার এসব উচ্ছেদকে সরকারি ও বন বিভাগের জমি পুনরুদ্ধারের উদ্যোগ হিসেবে ব্যাখ্যা করলেও, ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর দীর্ঘদিনের বসবাসের ইতিহাস এবং তাদের পুনর্বাসনের বিষয়টি যথাযথভাবে বিবেচনা করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে মসজিদ ধ্বংসের ঘটনাগুলোর নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ তদন্ত হওয়া জরুরি।

ন্যাশনাল ওলামা অ্যালায়েন্স নেতৃবৃন্দ মনে করে, ধর্মীয় পরিচয়ের কারণে কোনো জনগোষ্ঠীকে লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত করা কিংবা তাদের জানমাল অনিরাপদ করে তোলা মানবাধিকারের চরম লঙ্ঘন। ভারতীয় মুসলমানদের সাংবিধানিক অধিকার ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হিন্দুত্ববাদী মোদি সরকার বারবার ব্যর্থ হয়েছে।

সংগঠনটি ভারত সরকারের প্রতি আহ্বান জানায়, উচ্ছেদ ও মসজিদ ধ্বংসের পেছনে প্রকৃত উদ্দেশ্য উদঘাটন করতে হবে। পাশাপাশি জাতিসংঘ ও আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থার প্রতি আহ্বান জানানো হচ্ছে, আসামের পরিস্থিতি গুরুত্বের সঙ্গে পর্যবেক্ষণ করে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের অধিকার ও নিরাপত্তা রক্ষায় কার্যকর ভূমিকা রাখুন।

বাবরি মসজিদ ধ্বংসের মতো বেদনাদায়ক ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি রোধে মসজিদ, মানুষের বসতভিটা এবং নাগরিক অধিকার সুরক্ষিত রাখা অপরিহার্য। ভারতের মুসলমানরাও ভারতের নাগরিক। ধর্ম পরিচয় যাই হোক, প্রত্যেক নাগরিকের অধিকার ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে।

এআইএল/সকালবেলা