হামলায় ফোন-মানিব্যাগ ছিনতাইয়ের অভিযোগ নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর

প্রকাশ: শুক্রবার, ২২ মে ২০২৬, ০৩:৫১ অপরাহ্ণ
হামলায় ফোন-মানিব্যাগ ছিনতাইয়ের অভিযোগ নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর

রাজনৈতিক ডেস্ক : ঝিনাইদহে জুমার নামাজ শেষে অতর্কিত হামলার শিকার হওয়ার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে এক আবেগঘন ও বিস্ফোরক স্ট্যাটাসে ঘটনার লোমহর্ষক বিবরণ দিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সংগঠক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী। তিনি অভিযোগ করেছেন, হামলাকারীরা তাঁর ওপর মারাত্মক শারীরিক নির্যাতন চালানোর পাশাপাশি তাঁর সাথে থাকা মূল্যবান মোবাইল ফোন, ডিজিটাল ক্যামেরা এবং মানিব্যাগ জোরপূর্বক ছিনিয়ে নিয়ে গেছে।

আজ শুক্রবার (২২ মে) বিকাল ৩টা ২১ মিনিটে প্রকাশিত এক ফেসবুক পোস্টে তিনি নিজের এবং তাঁর সাথে থাকা নেতাকর্মীদের ওপর হওয়া এই রাজনৈতিক হামলার বিস্তারিত চিত্র তুলে ধরেন।

স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শী ও এনসিপির দলীয় সূত্রে জানা গেছে, ঝিনাইদহ শহরের পুরাতন ডিসি কোর্ট (কালেক্টরেট) জামে মসজিদে জুমার নামাজ আদায় শেষে সাধারণ মুসল্লিদের সাথে বের হওয়ার পরপরই এই হামলার ঘটনা ঘটে। এনসিপির কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতাদের সরাসরি অভিযোগ— জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল ও যুবদলের স্থানীয় নেতাকর্মীরা সুপরিকল্পিতভাবে এই হামলা পরিচালনা করেছে।

নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী তাঁর ফেসবুক পোস্টে ঘটনার বর্ণনা দিয়ে লেখেন, “ঝিনাইদহে পূর্বনির্ধারিত রাজনৈতিক কর্মসূচি অনুযায়ী আমরা জেলা প্রশাসকের বাসভবনের ঠিক বিপরীতে অবস্থিত পৌর কালেক্টরেট জামে মসজিদে জুমার নামাজ আদায় করতে যাই। নামাজ শেষে মসজিদ প্রাঙ্গণ থেকে বের হওয়ার পরপরই সেখানে দায়িত্বরত পুলিশের উপস্থিতিতেই ছাত্রদল ও যুবদলের একঝাঁক নেতাকর্মী আমাদের ওপর অতর্কিত ও হিংস্র হামলা শুরু করে। প্রথমে তারা আমাদের লক্ষ্য করে চারপাশ থেকে ডিম ও ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করে। এরপর মুহূর্তের মধ্যে হকিস্টিক ও লাঠিসোটা নিয়ে আমাদের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে।”

হামলার তীব্রতা এবং ক্ষয়ক্ষতির বিবরণ দিয়ে এই এনসিপি নেতা আরও বলেন, “উগ্র হামলাকারীদের উপর্যুপরি আঘাতে আমাদের সাথে থাকা তিন স্থানীয় নেতার মাথা ফেটে গেছে এবং বেশ কয়েকজন গুরুতর আহত হয়েছেন। ঘটনার একপর্যায়ে আমাকে লক্ষ্য করেও উপর্যুপরি কিল-ঘুসি মারা হয়। এই বিশৃঙ্খল পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে হামলাকারীরা আমার ব্যবহৃত ব্যক্তিগত মোবাইল ফোন, একটি ক্যামেরা এবং পকেটে থাকা মানিব্যাগ জোরপূর্বক ছিনিয়ে নিয়ে দ্রুত চম্পট দেয়।”

ফেসবুক পোস্টের শেষ অংশে বর্তমান পরিস্থিতি ও পরবর্তী আইনি পদক্ষেপের কথা উল্লেখ করে পাটওয়ারী বলেন, “এই অনাকাঙ্ক্ষিত ও ন্যাক্কারজনক ঘটনার পর আমরা এনসিপির স্থানীয় নেতাকর্মীরা ঝিনাইদহ সদর থানায় অবস্থান করছি। এই হামলায় জড়িতদের বিরুদ্ধে একটি আনুষ্ঠানিক মামলা দায়েরের জোর প্রস্তুতি নিচ্ছি। তবে অত্যন্ত উদ্বেগের বিষয় হলো, আমরা থানায় অবস্থান করার মধ্যেই ছাত্রদল, যুবদল ও বিএনপির নেতাকর্মীরা আবারও থানার বাইরে জড়ো হয়ে আমাদের ওপর পুনরায় হামলা চালানোর জন্য বড় ধরণের প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে আমরা খবর পেয়েছি।” এই ঘটনার পর ঝিনাইদহ শহর জুড়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে তীব্র উত্তেজনা বিরাজ করছে এবং অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি এড়াতে পুলিশি তৎপরতা বাড়ানো হয়েছে।

জান্নাত সকালাবেলা

মন্তব্য করুন