শিশু পরিবারে কিশোরী ধর্ষণের আসামি গ্রেপ্তার
আহমেদ লিওন, ভাঙ্গা (ফরিদপুর): ফরিদপুরে সমাজসেবা অধিদপ্তরের অধীন সরকারি শিশু পরিবারে থাকা ১৪ বছর বয়সী ষষ্ঠ শ্রেণির এক কিশোরী ধর্ষণের শিকার হয়ে ২৭ সপ্তাহের বেশি অন্তঃসত্ত্বা হওয়ার বর্বরোচিত ঘটনায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। এ ঘটনায় প্রধান অভিযুক্ত ওয়াহিদ শেখ (৫৪)কে গ্রেপ্তার করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠিয়েছে পুলিশ। একই সঙ্গে চরম দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে সরকারি শিশু পরিবারের পাঁচ কর্মকর্তা-কর্মচারীকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।
জানা গেছে, গত ৬ জুলাই জেলা সমাজসেবা অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক মোহাম্মদ আরিফ হোসেন বাদী হয়ে ফরিদপুর কোতোয়ালি থানায় একটি নিয়মিত মামলা দায়ের করেন। এরপরই পুলিশি তৎপরতায় গত ৮ জুলাই অভিযুক্ত ওয়াহিদ শেখকে গ্রেপ্তার করা হয়।
সংস্থার ভেতরে এমন সংবেদনশীল ঘটনায় দায়িত্বে চরম অবহেলার অভিযোগে গত ৮ জুলাই সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয় সহকারী তত্ত্বাবধায়ক মো. হাবিবুর রহমান, কম্পিউটার অপারেটর আবীর দাস, মেট্রন-কাম-নার্স মনি আক্তার এবং আয়া শামসুন্নাহার আক্তার ও তানিয়া তাজরীনকে।
ফরিদপুর সমাজসেবা অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক ও সচিব (প্রশাসন ও অর্থ) মো. সাইফুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, দায়িত্বে অবহেলার অকাট্য প্রমাণ পাওয়ায় ওই পাঁচ কর্মকর্তা-কর্মচারীর বিরুদ্ধে সাময়িক বরখাস্তের আদেশ দেওয়া হয়েছে।
জেলা সমাজসেবা অধিদপ্তরের উপপরিচালক মোহাম্মদ এহিয়াতুজ্জামান জানান, আইনি প্রক্রিয়া ও আদালতের নির্দেশে ভুক্তভোগী কিশোরীকে সমাজসেবা বিভাগের অধীন নিরাপদ নারী ও শিশু-কিশোরী হেফাজতিদের আবাসন কেন্দ্রে (সেফ হোম) বিশেষ তত্ত্বাবধানে রাখা হয়েছে।
ফরিদপুর কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মাহমুদুল হাসান বলেন, "গত ৬ জুলাই এ ঘটনায় থানায় মামলা দায়ের করা হয়। পুলিশ তদন্তে নেমে গত ৮ জুলাই অভিযুক্ত ওয়াহিদ শেখকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয় এবং তাকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।" পুরো ঘটনাটি অধিকতর তদন্তের মাধ্যমে দোষীদের কঠোর শাস্তি নিশ্চিতের প্রক্রিয়া চলছে বলে পুলিশ জানায়।
এআইএল/সকালবেলা
|