দুর্বলতা কাটিয়ে শক্তিশালী হওয়ার দোয়া ও আমল
ইসলামী জীবন ডেস্ক: মানুষ সৃষ্টিগতভাবেই দুর্বল ও সীমাবদ্ধতায় ঘেরা। পবিত্র কুরআনেও বলা হয়েছে, মানুষকে দুর্বল করেই সৃষ্টি করা হয়েছে। বাস্তব জীবনে চলার পথে মানুষ কখনো শারীরিক দুর্বলতায় ভোগে, কখনো মানসিক ভঙ্গুরতায় ভেঙে পড়ে, আবার কখনো রাগ-অহংকার, কৃপণতা ও সংকীর্ণতা তার সুন্দর চরিত্রকে ধূলিসাৎ করে দেয়।
মনস্তাত্ত্বিক ও চারিত্রিক এসব দুর্বলতা কেবল একজন ব্যক্তির আত্মিক ও আধ্যাত্মিক উন্নতির পথেই প্রধান অন্তরায় সৃষ্টি করে না, বরং তার পরিবার, সমাজ এবং পারস্পরিক মানবসম্পর্কেও নানামুখী অশান্তির কারণ হয়ে দাঁড়ায়। অথচ একজন প্রকৃত মুমিনের মূল লক্ষ্য ও কামনা হলো—তিনি যেন শক্ত ঈমান ও বলিষ্ঠ ব্যক্তিত্বের অধিকারী হওয়ার পাশাপাশি নরম হৃদয়ের মানুষ এবং উদার চরিত্রের অধিকারী হতে পারেন।
নিজের ভেতরের এই সব মানবিক দুর্বলতা ও খামতি কাটিয়ে উঠে একজন শক্তিশালী ও ভারসাম্যপূর্ণ মানুষ হিসেবে নিজেকে গড়ে তুলতে হাদিসের কিতাবে একটি চমৎকার দোয়ার উল্লেখ রয়েছে। ইসলামের দ্বিতীয় খলিফা হযরত ওমর ইবনুল খাত্তাব (রা.) যখন মুসলিম জাহানের খিলাফতের গুরুদায়িত্ব কাঁধে নেন, তখন মিম্বরে দাঁড়িয়ে আল্লাহর দরবারে এই প্রার্থনাটি করেছিলেন।
হাদিসে বর্ণিত সেই বিশেষ দোয়াটি হলো:
عَنِ جَامِعِ بْنِ شَدَّادٍ عَنْ أَبِيهِ قَالَ: كَانَ أَوَّلُ كَلَامٍ تَكَلَّمَ بِهِ عُمَرُ أَنْ قَالَ: اَللّٰهُمَّ إنّيْ ضَعِيْفٌ فَقَوِّনِيْ وَإِنِّيْ شَدِيْدٌ فَلَيِّনِيْ وَإِنِّইْ بَخِيْلٌ فَسَخِّنِيْ
উচ্চারণ: আল্লাহুম্মা ইন্নি দ্বায়িফুন ফা ক্বাওওয়িনি, ওয়া ইন্নি শাদিদুন ফা লায়্যিনি, ওয়া ইন্নি বাখিলুন ফা সাখখিনি।
অর্থ: ‘হে আল্লাহ! আমি দুর্বল, অতএব আমাকে শক্তিশালী করুন। আমি রূঢ় (কঠোর), আমাকে নম্রতা দান করুন। আমি কৃপণ, আপনি আমাকে বদাণ্যতা (উদারতা) দান করুন।’ (উৎস: মুসান্নাফে ইবনে আবি শাইবাহ, হাদিস নং: ৫১৭৯; আল-তাবাকাত আল-কুবরা)
দোয়াটির তাৎপর্য ও শিক্ষা: এই সংক্ষিপ্ত অথচ গভীর অর্থপূর্ণ দোয়াটিতে একজন মানুষের প্রধান তিনটি দুর্বলতা দূর করার আকুতি জানানো হয়েছে:
শক্তি ও দৃঢ়তা লাভ: ‘আমি দুর্বল, অতএব আমাকে শক্তিশালী করুন’—এই বাক্যের মাধ্যমে আল্লাহর কাছে শারীরিক শক্তির পাশাপাশি ঈমানি ও মানসিক শক্তি প্রার্থনা করা হয়, যা জীবনের যেকোনো কঠিন পরিস্থিতি মোকাবিলায় সাহায্য করে।
কোমলতা ও নম্রতা অর্জন: হযরত ওমর (রা.) স্বভাবগতভাবেই বেশ কঠোর মেজাজের ছিলেন। তাই তিনি আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করেছিলেন, ‘আমি রূঢ়, আমাকে নম্রতা দান করুন।’ একজন মুমিনের আচরণে নম্রতা থাকা অত্যন্ত জরুরি, কারণ নম্রতা মানুষের সৌন্দর্য বাড়িয়ে দেয়।
উদারতা ও কৃপণতা মুক্তি: মনের সংকীর্ণতা বা কৃপণতা মানুষের আত্মিক উন্নতির বড় বাধা। তাই শেষ অংশে আল্লাহর কাছে ভেতরের কৃপণতা দূর করে উদার বা দানশীল হওয়ার তাওফিক চাওয়া হয়েছে।
দৈনন্দিন জীবনে নিজের মানসিক ও চারিত্রিক ত্রুটিগুলো দূর করতে এবং আল্লাহর প্রিয় বান্দা হিসেবে নিজেকে গড়ে তুলতে প্রত্যেকরই নিয়মিত এই মাসনুন দোয়াটি পড়া এবং এর মর্মার্থ নিজের জীবনে ধারণ করা উচিত।
|