ইয়েমেনের রাজধানী সানায় শক্তিশালী বিস্ফোরণ
অনলাইন ডেস্ক: ইরান সমর্থিত হুতি বিদ্রোহীদের নিয়ন্ত্রণে থাকা ইয়েমেনের রাজধানী সানায় এক শক্তিশালী বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। তবে এই বিস্ফোরণের সুনির্দিষ্ট কারণ কিংবা এতে কী ধরনের ক্ষয়ক্ষতি ও হতাহতের ঘটনা ঘটেছে তা তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
শনিবার (৩ অক্টোবর) কাতারভিত্তিক আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরা এক প্রতিবেদনে এই বিস্ফোরণের বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।
প্রতিবেদনে জানানো হয়, রাজধানী সানায় বিস্ফোরণের পাশাপাশি ইয়েমেনের আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত ও সৌদি সমর্থিত সরকারি বাহিনীর সঙ্গে হুতি বিদ্রোহীদের সশস্ত্র লড়াই আরও তীব্র রূপ ধারণ করেছে। গত ২৪ ঘণ্টায় দেশটির বিভিন্ন প্রান্তে হুতিদের লক্ষ্য করে প্রায় ৪৭৪টি পৃথক সামরিক অভিযান চালিয়েছে সরকারি বাহিনী। এসব ব্যাপক অভিযানে অন্তত ১ হাজার ৫৪০ জন হুতি সদস্য নিহত ও আহত হয়েছেন বলে সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে।
শুক্রবার (২ অক্টোবর) সন্ধ্যায় ইয়েমেনি সামরিক বাহিনীর মুখপাত্র কর্নেল মাজেদ আবদুল্লাহ আল-নাজিলি জানান, হুতিদের কৌশলগত অবস্থান, অস্ত্রাগার ও সামরিক সরঞ্জাম ধ্বংস করতে যুদ্ধবিমান, চালকবিহীন ড্রোন, কামান, ক্ষেপণাস্ত্র এবং রকেট লাঞ্চার দিয়ে একযোগে যৌথ হামলা চালানো হয়েছে। পাশাপাশি হুতিদের রসদ ও প্রয়োজনীয় সামরিক সরঞ্জাম সরবরাহের পথগুলো লক্ষ্য করেও হামলা জোরদার করা হয়।
উল্লেখ্য, ২০২২ সালে ইয়েমেন সরকার ও হুতিদের মধ্যে একটি নাজুক যুদ্ধবিরতি চুক্তি স্বাক্ষরিত হলেও চলতি বছরের জুলাই মাসে তা পুরোপুরি ভেঙে যায়। চুক্তি ভঙ্গের পর থেকেই মধ্যপ্রাচ্যের এই দেশটিতে সংঘাত নতুন করে ভয়াবহ রূপ ধারণ করে।
ইতিহাস পর্যালোচনায় দেখা যায়, ২০১৪ সালে হুতি বিদ্রোহীরা আকস্মিকভাবে সানা দখল করে নিলে ইয়েমেনে দীর্ঘমেয়াদি গৃহযুদ্ধের সূচনা হয়। পরিস্থিতির অবনতি ঘটলে তৎকালীন আন্তর্জাতিক স্বীকৃত সরকার রাজধানী ছেড়ে দক্ষিণাঞ্চলীয় বন্দরনগরী এডেনে তাদের সদর দপ্তর স্থানান্তর করে। দীর্ঘ এক দশকের এই রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে দেশটিতে বিপুলসংখ্যক সাধারণ মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়ে চরম মানবিক সংকটে দিন কাটাচ্ছেন।