চীনের চাপের মধ্যেও তাইওয়ানকে সামরিক সরঞ্জাম সরবরাহের প্রতিশ্রুতি যুক্তরাষ্ট্রের
অনলাইন ডেস্ক: অস্ত্র ও আধুনিক সামরিক সরঞ্জাম ক্রয়ের লক্ষ্যে ওয়াশিংটনের সাথে নিয়মিত দ্বিপাক্ষিক আলোচনা ও সমন্বয় অব্যাহত রেখেছে তাইওয়ান। সম্প্রতি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও চীনা প্রেসিডেন্ট শি চিনপিংয়ের মধ্যে উচ্চপর্যায়ের বৈঠক অনুষ্ঠিত হলেও, তাইওয়ান সংক্রান্ত যুক্তরাষ্ট্রের নীতিতে কোনো নেতিবাচক পরিবর্তন আসেনি বলে ওয়াশিংটনের কাছ থেকে স্পষ্ট আশ্বাস পেয়েছে তাইপে।
মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) তাইওয়ানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ওয়েলিংটন কু এই তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, বেইজিংয়ের তীব্র কূটনৈতিক ও সামরিক চাপের মধ্যেও তাইওয়ানকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘদিনের নীতিতে পরিবর্তনের কোনো আলামত পাওয়া যায়নি। আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, প্রতিরক্ষার প্রয়োজনীয় সরঞ্জামাদি কেনাকাটা নিয়ে দুই দেশের প্রতিনিধিদের মধ্যে প্রতিনিয়ত যোগাযোগ রক্ষা করা হচ্ছে। যদিও তাইওয়ানের সাথে যুক্তরাষ্ট্রের আনুষ্ঠানিক কোনো কূটনৈতিক সম্পর্ক নেই, তথাপি তাইপের প্রধান আন্তর্জাতিক মিত্র ও অন্যতম অস্ত্র সরবরাহকারী শক্তি হিসেবে ভূমিকা রেখে চলেছে ওয়াশিংটন।
তবে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে আগে থেকে অর্ডার করা কিছু সামরিক সরঞ্জামের সরবরাহ নিয়ে কিছুটা জটিলতা ও বিলম্ব তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে অন্যতম হলো ২০১৯ সালে চুক্তিবদ্ধ হওয়া মার্কিন প্রতিরক্ষা প্রস্তুতকারক সংস্থা 'লকহিড মার্টিন'-এর ৬৬টি উন্নত প্রযুক্তির 'এফ-১৬ভি' (F-16V) যুদ্ধবিমান। উৎপাদনজনিত সমস্যা ও বৈশ্বিক সাপ্লাই চেইন সংক্রান্ত বিভিন্ন ব্যাঘাতের কারণে এই যুদ্ধবিমানগুলোর হস্তান্তর নির্ধারিত সময়সূচির চেয়ে পিছিয়ে গেছে।
তাইওয়ানের স্থানীয় গণমাধ্যমের তথ্য অনুসারে, প্রথম চালানের দুটি এফ-১৬ভি যুদ্ধবিমান ইতোমধ্যে তাইওয়ানের উদ্দেশ্যে রওনা করলেও বর্তমানে সেগুলোকে সাময়িকভাবে হাওয়াই দ্বীপে রাখা হয়েছে। পরে বিমান দুটি তাইওয়ানের পথে না বাড়িয়ে পুনরায় হাওয়াইয়ে ফেরত আসায় সরবরাহের সময়সূচি নিয়ে কিছুটা অনিশ্চয়তা ও উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে।
এ প্রসঙ্গে প্রতিরক্ষামন্ত্রী ওয়েলিংটন কু বলেন, সামরিক সরঞ্জাম সরবরাহে এই বিলম্বের কারণে প্রয়োজনীয় ক্ষতিপূরণমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। পাশাপাশি দ্রুত সময়ের মধ্যে চুক্তিভুক্ত সব অস্ত্র ও উন্নত সরঞ্জাম সরবরাহ নিশ্চিত করতে তাইওয়ান মার্কিন কর্তৃপক্ষের সাথে নিরবচ্ছিন্ন যোগাযোগ বজায় রাখছে।