ইসরায়েলের বিরুদ্ধে সরাসরি সামরিক সংঘাতে যাচ্ছে না তুরস্ক

প্রকাশ: শনিবার, ১১ জুলাই ২০২৬, ০৩:৫০ অপরাহ্ণ
ইসরায়েলের বিরুদ্ধে সরাসরি সামরিক সংঘাতে যাচ্ছে না তুরস্ক
আন্তর্জাতিক ডেস্ক ঃ গত কয়েক দিন ধরে মধ্যপ্রাচ্যের দুই শক্তিশালী দেশ ইসরায়েল ও তুরস্কের শীর্ষ কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র উত্তপ্ত বাক্য বিনিময় ও কূটনৈতিক টানাপোড়েন চললেও, তেল আবিবের সঙ্গে আঙ্কারা সরাসরি কোনো সামরিক যুদ্ধে জড়াবে না বলে স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান।

তার্কিস পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান স্পষ্টভাবে বলেছেন, ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু এবং তাঁর প্রশাসনের কিছু কট্টরপন্থী ব্যক্তি মূলত আসন্ন জাতীয় নির্বাচনের আগে অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক ফায়দা লুটতে এবং ভোটারদের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে এই ধরনের উসকানিমূলক ও উত্তপ্ত কথা বলছেন। কিন্তু নেতানিয়াহুর তৈরি করা এই সুদূরপ্রসারী যুদ্ধের ফাঁদে তুরস্ক কোনোভাবেই পা দেবে না। কারণ আঙ্কারার এই মুহূর্তে ইসরায়েলের সঙ্গে সরাসরি কোনো যুদ্ধে জড়ানোর কোনো প্রয়োজন নেই।

আজ শনিবার (১১ জুলাই) মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক প্রভাবশালী আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম ‘দ্য ন্যাশনাল’-কে দেওয়া এক বিশেষ ও একান্ত সাক্ষাৎকারে হাকান ফিদান এই কৌশলগত অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেন।

তার্কিস পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান বলেন, “আমি মনে করি না যে এই মুহূর্তে ইসরায়েলের সঙ্গে তুরস্কের সরাসরি কোনো সামরিক যুদ্ধে জড়ানোর সুনির্দিষ্ট কোনো যৌক্তিক কারণ আছে। আমি আগেও বহুবার বিভিন্ন আন্তর্জাতিক প্ল্যাটফর্মে বলে আসছি, যখনই ইসরায়েলে নির্বাচনের সময় ঘনিয়ে আসে, তখনই আমি ইসরায়েলি সরকারি দল ও উগ্র বিরোধী রাজনীতিকদের মুখ থেকে এই ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত ও হুমকিমূলক কথা শুনে থাকি। যদিও ইসরায়েলের সব বিরোধী রাজনীতিক বা সাধারণ মানুষ এমন উগ্র মানসিকতা ধারণ করেন না। মহান আল্লাহকে ধন্যবাদ যে ইসরায়েলে এখনও কিছু বোধসম্পন্ন, যুদ্ধবিরোধী ও বুদ্ধিমান মানুষ বেঁচে আছেন।”

নেতানিয়াহুর যুদ্ধংদেহী নীতির কঠোর সমালোচনা করে হাকান ফিদান আরও বলেন, “ইসরায়েলের সবাই বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু এবং তাঁর কাছের কিছু যুদ্ধবাজ মানুষের মতো অন্ধ নয়। কিন্তু নেতানিয়াহু ও তাঁর ঘনিষ্ঠ বৃত্তের মানুষদের নিজেদের ক্ষমতা টিকিয়ে রাখতে এবং নির্বাচন ঘনিয়ে আসলে সবসময় কৃত্রিমভাবে কোনো না কোনো ‘শত্রু’র প্রয়োজন হয়। তারা ইতিমধ্যে হামাস, হিজবুল্লাহ এবং ইরানের বিরুদ্ধে সরাসরি যুদ্ধে লিপ্ত রয়েছে। এখন নিজেদের রাজনৈতিক ব্যর্থতা ঢাকতে এবং ক্ষমতা ধরে রাখতে তাদের আরেকটি বড় শত্রুর প্রয়োজন। আর সে কারণেই অনেক ইসরায়েলি সুযোগসন্ধানী রাজনীতিকের কাছে এখন নতুন শত্রু হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে তুরস্ক।”

সাক্ষাৎকারে তার্কিস পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইঙ্গিত দেন যে, তুরস্ক ফিলিস্তিন ও আঞ্চলিক শান্তিশৃঙ্খলা রক্ষায় কূটনৈতিকভাবে সোচ্চার থাকলেও কোনো দেশের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক এজেন্ডা বা সস্তা নির্বাচনী প্রচারণার অংশ হিসেবে নিজেদের কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত যুদ্ধে জড়াবে না। তবে যেকোনো ধরনের আগ্রাসনের বিরুদ্ধে তুরস্কের প্রতিরক্ষামূলক প্রস্তুতি এবং আঞ্চলিক প্রভাব বজায় থাকবে বলেও তিনি স্পষ্ট বার্তা দেন।

মন্তব্য করুন