সুদানে ড্রোন হামলায় আবিয়েই বাজারে নিহত বেড়ে ১৫৩
অনলাইন ডেস্ক: সুদানের সেনাবাহিনী ও আধাসামরিক বাহিনী র্যাপিড সাপোর্ট ফোর্সেসের (আরএসএফ) মধ্যে তিন বছরেরও বেশি সময় ধরে চলা রক্তক্ষয়ী গৃহযুদ্ধের উত্তাপ এবার ছড়িয়ে পড়েছে দক্ষিণ সুদানের সীমান্ত ঘেঁষা বিতর্কিত আবিয়েই অঞ্চলে। গত সোমবার আবিয়েই শহরের উত্তরমুখী এক জনাকীর্ণ বাজারে পরিচালিত ভয়াবহ ড্রোন হামলায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে ১৫৩ জনে পৌঁছেছে। ভয়াবহ এই হামলার পর বাজারটির একাধিক জ্বালানি ডিপোতে আগুন ধরে যায়, যাতে পুড়ে ছাই হয়ে গেছে অসংখ্য মানুষের মরদেহ।
আবিয়েই অঞ্চলের ভারপ্রাপ্ত তথ্যমন্ত্রী ইয়োহানা আকোল এনগর মঙ্গলবার আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে জানান, প্রাথমিক তথ্যে ৭৩ জনের মৃত্যুর কথা জানা গেলেও ধ্বংসস্তূপ ও ছাই সরাতে সরাতে লাশের সংখ্যা বেড়ে ১৫৩ জনে দাঁড়িয়েছে। উদ্ধারকাজ এখনো চলায় এবং অগ্নিকাণ্ড পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে না আসায় মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে।
এনগর এই হামলার জন্য সরাসরি সুদানের সামরিক বাহিনীকে দায়ী করেছেন। এক প্রত্যক্ষদর্শী জানান, বাজারে পরপর পাঁচটি বিকট বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায় এবং মুহূর্তে পুরো বাজারে দাউদাউ করে আগুন ধরে যায়। আহত ও নিহত অনেকের শরীর অগ্নিদগ্ধ ও স্প্লিন্টারে ঝাঁজরা হয়ে গেছে। ওই হামলায় তাৎক্ষণিকভাবে গৃহহীন হয়ে পড়েছেন প্রায় আট হাজার স্থানীয় বাসিন্দা।
২০১১ সালে দক্ষিণ সুদান স্বাধীন হওয়ার পর থেকেই তেলসমৃদ্ধ আবিয়েই অঞ্চলের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে সুদান ও দক্ষিণ সুদানের মধ্যে বিরোধ চলছে। অঞ্চলটি বর্তমানে জাতিসংঘ নিরাপত্তা বাহিনীর (ইউএনআইএসএফএ) তত্ত্বাবধানে পরিচালিত হয়। অভিযোগ রয়েছে, এই অঞ্চলটিকে আরএসএফ সেনা তাদের জ্বালানি রসদ ও রুট হিসেবে ব্যবহার করে আসছে।
জাতিসংঘের মুখপাত্র স্তেফান দুজারিক সুদান জুড়ে একের পর এক ড্রোন হামলা ও গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো ধ্বংসের ঘটনায় তীব্র উদ্বেগ ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। গত কয়েক দিনেই নিয়ালা শহর, পশ্চিম কর্দোফান ও খার্তুম বিমানবন্দরে বিমান ও ড্রোন হামলায় প্রায় আড়াইশ নিরীহ মানুষের মৃত্যু হয়েছে।
ভয়াবহ এই হামলার পর আহতদের চিকিৎসায় হিমশিম খাচ্ছে স্থানীয় হাসপাতালগুলো। আন্তর্জাতিক দাতব্য সংস্থা ‘মেদসাঁ সঁ ফ্রন্তিয়েত’ (এমএসএফ) জানিয়েছে, তাদের চিকিৎসকরা আমেথ বেক হাসপাতালে আশঙ্কাজনক অবস্থায় থাকা দগ্ধ ও আহত রোগীদের জরুরি অস্ত্রোপচার ও ব্যান্ডেজ সেবা দিয়ে যাচ্ছেন। সেখানে পর্যাপ্ত ওষুধ ও বেড না থাকায় অনেক রোগীকে হাসপাতালের মেঝেতেই চিকিৎসা নিতে হচ্ছে।
সকালবেলা / নুসরাত