ট্রাম্পের ভাইরাল স্যুট কি ‘মেড ইন বাংলাদেশ’?

প্রকাশ: শনিবার, ১০ অক্টোবর ২০২৬, ১২:৪৫ অপরাহ্ণ
ট্রাম্পের ভাইরাল স্যুট কি ‘মেড ইন বাংলাদেশ’?

অনলাইন ডেস্ক: সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের নেব্রাস্কা অঙ্গরাজ্যের গ্র্যান্ড আইল্যান্ডে অনুষ্ঠিত ‘মেক আমেরিকা গ্রেট এগেইন’ (MAGA) শীর্ষক এক নির্বাচনী সমাবেশে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের পোশাকের ট্যাগ প্রকাশ্যে আসার পর বিশ্বজুড়ে নতুন আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। বিলাসবহুল জীবনযাত্রার জন্য পরিচিত ট্রাম্পের গায়ে আন্তর্জাতিক ফ্যাশন ব্র‍্যান্ড 'জোস এ. ব্যাংক' (Jos. A. Bank)-এর একটি সাশ্রয়ী স্যুট দেখা যাওয়ার ঘটনায় পোশাক শিল্পে বাংলাদেশের ভূমিকার বিষয়টি আবারও নজরে এসেছে।

সমাবেশের শেষ পর্যায়ে ট্রাম্প যখন তাঁর নাচ পরিবেশন ও কথা বলার সময় স্যুটের সামনের বোতাম খোলেন, তখন ভেতরে থাকা পোশাকের ট্যাগটি ক্যামেরায় স্পষ্টভাবে দৃশ্যমান হয়ে ওঠে। দেখা যায়, তিনি আমেরিকার অতি পরিচিত সাশ্রয়ী ব্র‍্যান্ড 'জোস এ. ব্যাংক'-এর একটি নেভি ব্লু রঙের স্যুট পরেছিলেন।

পোশাক বিশেষজ্ঞরা জানান, ট্রাম্পের গায়ে থাকা স্যুটটি ব্র‍্যান্ডটির 'ট্রাভেলার' সংগ্রহের সাথে মেলে, যার আনুমানিক বাজারমূল্য মাত্র ২৫০ থেকে ২৭৯ ডলার। 'দ্য অ্যাপ্রেন্টিস' অনুষ্ঠানের সময় থেকেই ট্রাম্প যেখানে ৫ থেকে ১৬ হাজার ডলার মূল্যের ইতালিয়ান বিলাসজাত ব্র্যান্ড 'ব্রিওনি' (Brioni)-র তৈরি স্যুট ব্যবহারে অভ্যস্ত ছিলেন, সেখানে হঠাৎ এমন সাশ্রয়ী স্যুট পরিধানের বিষয়টি রাজনৈতিক ও ফ্যাশন বিশ্লেষকদের নজর কেড়েছে।

ট্রাম্পের স্যুটের ছবি প্রকাশ্যে আসার পরপরই ফ্যাশন বিশেষজ্ঞ ও আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে এর উৎপাদনস্থল নিয়ে গবেষণা শুরু হয়। 'জোস এ. ব্যাংক' মূলত যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক মেগাহোল্ডিং কোম্পানি 'টেইলর্ড ব্র‍্যান্ডস'-এর একটি সহযোগী প্রতিষ্ঠান, যারা 'মেনস ওয়্যারহাউস'-এরও মালিক।

বিখ্যাত ফ্যাশন লেখক ডেরেক গাই জানান, এই ব্র‍্যান্ডটির কিছু নিজস্ব কালেকশন (যেমন 'জোসেফ অ্যাবাউড') যুক্তরাষ্ট্রে তৈরি হলেও সাধারণ ক্যাটালগের বিশাল অংশ উৎপাদিত হয় এশিয়ার দেশগুলোতে, বিশেষ করে বাংলাদেশ ও চীনে। দৃশ্যমান ট্যাগটি যুক্তরাষ্ট্রে তৈরি স্যুটের ট্যাগের মতো নয়। ফলে ট্রাম্পের পরা জোস এ. ব্যাংকের এই পোশাকটি বাংলাদেশে অথবা চীনে তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা শতভাগ বলেই ধারণা করা হচ্ছে।

ট্রাম্পের এই পোশাক রাজনীতিতে এক অস্বস্তিকর বিতর্কের সৃষ্টি করেছে। ডোনাল্ড ট্রাম্প দীর্ঘদিন ধরে দেশের অভ্যন্তরীণ উৎপাদন বৃদ্ধি, দেশে নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং বৈদেশিক পণ্যের ওপর অতিরিক্ত শুল্ক বসানোর 'আমেরিকা ফার্স্ট' নীতির কথা বলে আসছেন। সমাবেশে বক্তব্য রাখার সময়ও তিনি দেশীয় উৎপাদন বৃদ্ধির কথা জোর দিয়ে বলেন। কিন্তু বক্তব্য শেষ হতেই নিজের গায়ে এশিয়া থেকে আমদানি করা স্যুট উন্মোচিত হওয়ায় সমালোচকেরা তাঁর নীতি ও বাস্তব আচরণের মধ্যে দ্বিচারিতার প্রশ্ন তুলেছেন।

তবে কিছু রাজনৈতিক বিশ্লেষক মনে করছেন, ঘটনাটি ট্রাম্পের কোনো নতুন রাজনৈতিক কৌশলের অংশ হতে পারে। বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে নিত্যপণ্যের দাম বৃদ্ধি নিয়ে চরম উদ্বেগে থাকা সাধারণ মধ্যবিত্ত ভোটারদের কাছাকাছি নিজেকে উপস্থাপন করতেই হয়তো তিনি সাশ্রয়ী পোশাক বেছে নিয়েছেন। তবে ভিডিও ফুটেজ পর্যালোচনায় দেখা গেছে, নেচে গেয়ে সমাবেশ শেষ করার মুহূর্তে অনভিপ্রেতভাবে জ্যাকেটটি খুলে যাওয়াই ট্যাগটি দৃশ্যমান হওয়ার প্রধান কারণ ছিল।

সব মিলিয়ে, স্যুটটির সঠিক কারখানা নিশ্চিত না হলেও যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য এবং বাংলাদেশের পোশাক শিল্পের সক্ষমতার বিষয়টি আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দারুণভাবে তুলে ধরা হয়েছে।