পুরুষদের চেয়ে বেশি সময় কাজ করতে হয়: জাপানের প্রধানমন্ত্রী
অনলাইন ডেস্ক: অফিসিয়াল কাজের বাইরেও গৃহস্থালি ও ব্যক্তিগত প্রস্তুতিমূলক কাজের চাপে পুরুষ রাজনীতিকদের তুলনায় তাকে প্রতিদিন গড়ে তিন থেকে চার ঘণ্টা বেশি সময় কাজ করতে হয় বলে মন্তব্য করেছেন জাপানের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি। তাঁর এই খোলামেলা মন্তব্য প্রকাশের পর থেকে দেশটির রক্ষণশীল সমাজব্যবস্থা ও প্রচলিত লিঙ্গভিত্তিক ভূমিকার বিভাজন নিয়ে নতুন করে তীব্র রাজনৈতিক ও সামাজিক বিতর্ক শুরু হয়েছে।
গত বুধবার জাপানি পার্লামেন্টের এক গুরুত্বপূর্ণ অধিবেশনে বক্তব্য রাখতে গিয়ে তাকাইচি এই বাস্তবতার কথা তুলে ধরেন।
অতিরিক্ত পরিশ্রমী নেতা হিসেবে পরিচিত সানায়ে তাকাইচি পার্লামেন্টে বলেন, “সকালে আমি ঘুম থেকে উঠে গোসল করি, পরিবারের জন্য নাশতা তৈরি করি এবং বাসনপত্র ধুই। এর পাশাপাশি চুল ও মেকআপ ঠিক করতে হয়।”
তিনি আরও যোগ করেন, “এই সমস্ত গৃহস্থালি ও ব্যক্তিগত পরিপাটি হওয়ার কাজগুলো করতে গিয়ে আমার মনে হয়, পুরুষ প্রধানমন্ত্রীরা তাদের দৈনন্দিন রুটিনে এসব কাজে যতটা সময় দেন, তার চেয়ে আমার অন্তত তিন থেকে চার ঘণ্টা সময় বেশি ব্যয় করতে হয়।”
তাকাইচি জানান, ক্যামেরার সামনে বা গণমাধ্যমের সামনে হাজির হওয়ার আগে নিজেকে গুছিয়ে নিতে এই বাড়তি সময় দেওয়ার বিষয়টি বুঝতে তার রাজনৈতিক সহযোগীদেরও কিছুটা সময় লেগেছিল।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, জাপানে এখনও লিঙ্গভিত্তিক সামাজিক ভূমিকার বিভাজন অত্যন্ত কঠোর। দেশটির পুরুষদের দীর্ঘ সময় ধরে করপোরেট বা রাজনৈতিক দপ্তরে কাজ করা স্বাভাবিক প্রথা হিসেবে দেখা হলেও, কর্মজীবী নারীদের ঘরের যাবতীয় কাজ এবং সন্তান লালন-পালনের দায়িত্ব একা হাতে সামলাতে হয়—যাকে বলা হয় 'ডাবল বার্ডেন' বা দ্বিগুণ বোঝা।
জাপানের সর্বশেষ সরকারি পরিসংখ্যানও এই বৈষম্যের ভয়াবহ চিত্র তুলে ধরে। তথ্য অনুযায়ী, জাপানি নারীরা প্রতিদিন গড়ে ঘরের কাজে প্রায় পাঁচ ঘণ্টা ব্যয় করেন। পক্ষান্তরে, দেশটির পুরুষেরা এসব কাজে গড়ে মাত্র ৪০ মিনিট সময় দেন। প্রথম কোনো নারী সরকারপ্রধানের মুখে এই কাঠামোগত বৈষম্যের কথা উঠে আসায় দেশটিতে নারীদের সামাজিক অবস্থান নিয়ে নতুন করে আত্মসমালোচনার সুযোগ তৈরি হয়েছে।