এয়ার ইন্ডিয়ার বিমানে ছিনতাইয়ের ভুয়া সংকেত: রাজস্থানে তল্লাশি
অনলাইন ডেস্ক: জার্মানির ফ্রাঙ্কফুর্ট থেকে ২৯৩ জন যাত্রী এবং ১৩ জন ক্রু নিয়ে ভারতের রাজধানী দিল্লির উদ্দেশ্যে উড়ে আসা এয়ার ইন্ডিয়ার একটি বোয়িং ৭৮৭-৯ যাত্রীবাহী উড়োজাহাজে আকস্মিক ছিনতাই এবং বোমার আতঙ্ক দেখা দিয়েছে। ভারতের আকাশসীমায় প্রবেশ করার পর বিমানটির ট্রান্সপন্ডার থেকে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত ছিনতাই সংকেত ‘৭৫০০’ সম্প্রচারিত হতে থাকলে বিমানটিকে জরুরি ভিত্তিতে রাজস্থানের জয়পুর আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করানো হয়।
বুধবার (১৪ অক্টোবর) সকালে ঘটে যাওয়া এই ঘটনায় ফ্লাইটের ভেতরে এবং বিমানবন্দরে অপেক্ষারত স্বজনদের মাঝে প্রচণ্ড আতঙ্কের সৃষ্টি হয়। তবে নিরাপত্তা বাহিনীর পুঙ্খানুপুঙ্খ তল্লাশি শেষে কোনো ধরনের বিপদ না পাওয়ায় বিকেল ৩টা ১৫ মিনিটের দিকে বিমানটি নিরাপদে দিল্লির ইন্দিরা গান্ধী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে এসে পৌঁছায়।
এভিয়েশন সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, উড্ডয়নরত অবস্থায় 'এআই২০৩০' (AI2030) ফ্লাইটটির ট্রান্সপন্ডার সিস্টেম থেকে হঠাৎ করে ‘৭৫০০’ সংকেত এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোলে (ATC) পৌঁছায়। আন্তর্জাতিক বিমান চলাচলের নিয়ম অনুযায়ী, বিমানে কোনো বেআইনি হস্তক্ষেপ বা ছিনতাইয়ের (Hijack) মতো গুরুতর ঘটনা ঘটলেই কেবল পাইলট বা অটোমেটিক সিস্টেম থেকে এই সংকেত পাঠানো হয়। সংকেত পাওয়ার সাথে সাথেই এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোল সর্বোচ্চ সতর্কতা জারি করে ফ্লাইটটিকে দ্রুত দিল্লির বদলে জয়পুরের দিকে ঘুরিয়ে দেওয়ার নির্দেশ দেয়।
বুধবার সোয়া ৯টার দিকে ফ্লাইটের ক্যাপ্টেন যাত্রীদের জানান, নিরাপত্তাজনিত কারণে নির্ধারিত গন্তব্য পরিবর্তন করে জয়পুরে অবতরণ করা হচ্ছে। নামার সাথে সাথেই পুরো বিমানটিকে ঘিরে ফেলে আর্মড পুলিশ, অগ্নিনির্বাপণ বাহিনী এবং বিশাল নিরাপত্তা বহর।
জার্মান নাগরিক ও ভারতীয় বংশোদ্ভূত যাত্রী গুরজিৎ সিং খালসা জানান, জয়পুরে অবতরণের পর প্রায় দুই ঘণ্টা তাঁদের বিমানের ভেতরেই বসিয়ে রাখা হয়। বেলা সাড়ে ১১টার দিকে সবাইকে নামিয়ে পাসপোর্ট ও ব্যাগেজ স্ক্যান করা হয়। অন্য এক আন্তর্জাতিক যাত্রী জানান, বোমার আতঙ্ক এবং ইন্টারনেটে তাঁদের বিমানটি ‘ছিনতাই’ হয়েছে বলে সংবাদ ও গুজব ছড়িয়ে পড়ায় জার্মানিতে তাঁদের পরিবারের সদস্যরা চরম উদ্বেগে পড়ে গিয়েছিলেন। তবে নিরাপত্তা সংস্থাগুলো পেশাদারিত্বের সাথেই সার্বিক পরিস্থিতি সামাল দিয়েছে।
ঘটনার পর এয়ার ইন্ডিয়া কর্তৃপক্ষ তাদের অফিসিয়াল বিবৃতিতে জানায়, সম্ভাব্য নিরাপত্তা ঝুঁকির সতর্কবার্তা মেলায় ফ্রাঙ্কফুর্ট-দিল্লি ফ্লাইটটিকে সতর্কতাস্বরূপ জয়পুরে ঘুরিয়ে দেওয়া হয়েছিল। নিরাপত্তা সংস্থাগুলো পুঙ্খানুপুঙ্খ স্ক্যান ও তল্লাশি চালিয়ে উড়োজাহাজ, যাত্রী ও ক্রুদের সম্পূর্ণ নিরাপদ ঘোষণা করার পরেই ফ্লাইটটি পুনরায় দিল্লির উদ্দেশ্যে যাত্রা করে।
ভারতের বেসামরিক বিমান চলাচল অধিদপ্তর (ডিজিসিএ) জানিয়েছে, কেন এই '৭৫০০' ছিনতাই সংকেতটি এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোলে গিয়েছিল, তা খতিয়ে দেখতে উচ্চপর্যায়ের তদন্ত শুরু করা হয়েছে। এটি উড়োজাহাজের ভেতরের কোনো কারিগরি যান্ত্রিক ত্রুটি, নাকি এটিসি প্রসেসিং ব্যবস্থার গলদ—তা তদন্তের পরই সুনির্দিষ্টভাবে বলা সম্ভব হবে।